টাঙ্গাইলের সখীপুর-বাসাইল (৮) আসনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) অনুপম শাহজাহান জয়ের ৯৮ বছর বয়সী দাদি আখতার জাহানের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে সখীপুরের সূর্যতরুণ শিক্ষাঙ্গন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ভারতে অবস্থানরত অনুপম ফোনে ভিডিও কলের মাধ্যমে জানাজার আগে মুসল্লিদের কাছে দোয়া চেয়েছিলেন।

জানাজার শুরুতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম বক্তব্য দেন। এরপর স্থানীয় তালুকদার বংশের পক্ষ থেকে সখীপুর বাজার বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি তাহেরুল ইসলাম তালুকদার কথা বলেন। পরে ভিডিও কলে যুক্ত হন অনুপম। প্রায় পৌনে চার মিনিটের বক্তব্যে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি দাদির রহমত কামনা করেন। অনুপম জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ফোনে তাঁর দাদির সঙ্গে কথা হয়েছিল। তখন দাদি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘দাদু, তোমার সঙ্গে কি আমার আর কখনো দেখা হবে না?’ অনুপম উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আগামী শীতে তোমার সঙ্গে অবশ্যই দেখা হবে।’

বক্তব্যে তিনি টাঙ্গাইল-৮ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানকে ধন্যবাদ জানান। অনুপম বলেন, রাজনীতির যে সৌন্দর্য ও সৌজন্যতা তিনি দেখিয়েছেন, এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে অনুপম এবং তাঁর চাচা সখীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল প্রকাশ্যে নেই। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অনুপম বর্তমানে ভারতে আছেন, অন্যদিকে জুলফিকার হায়দার দেশেই আত্মগোপনে রয়েছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ওপর হামলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

আখতার জাহানের স্বামী ছিলেন সখীপুর উপজেলার বৃহত্তর গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রয়াত মোখতার আলী তালুকদার। তাঁদের বড় ছেলে শওকত মোমেন শাহজাহান টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাবার মৃত্যুর পর এই আসন থেকে নির্বাচিত হন ছেলে অনুপম শাহজাহান জয়।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে আখতার জাহানের মৃত্যু হয়। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পাঁচ দিন আগে তাঁকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। জানাজায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী এবং বিএনপি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে মাগরিবের নামাজের আগে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

এর আগে আজ বেলা দুইটার দিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান অনুপমের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। পরে তিনি আখতার জাহানের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত করেন।