প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো রাজশাহী সফরে এসেছেন তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে তিনি সামরিক বিমানে করে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি নগরের ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন। সেখানে তিনি বেলা ৩টা ২৮ মিনিটে পৌঁছান।
সফরসূচি অনুযায়ী, বেলা সোয়া ১টার দিকে তাঁর রাজশাহীতে পৌঁছানোর কথা ছিল। এরপর নগরের গণকপাড়ায় অবস্থিত রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন এবং সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নবিরতির কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরিতে তিনি রাজশাহীতে পৌঁছান। এই জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। পাশাপাশি রাজশাহীর আখচাষিদের মাঝে প্রণোদনা অর্থ বিতরণের একটি কর্মসূচিও তাঁর এই সফরের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রাজশাহী সফর শেষ করে তিনি পুনরায় সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। উল্লেখ্য, এই সফরের আগে আজ সকালে তিনি রংপুরে রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে রাজশাহীতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর আগমন ও জনসভা উপলক্ষে গত কয়েক দিন ধরে রাজশাহী নগরে ব্যাপক প্রস্তুতি কার্যক্রম চালানো হয়। বিমানবন্দর থেকে তাঁর যাত্রাপথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সংস্কার, পিচ ঢালাই ও রং করার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। শহরের দেয়ালে বিভিন্ন চিত্র আঁকা হয়েছে। ড্রেন মেরামতের পাশাপাশি বিভিন্ন ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথকে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
জনসভার জন্য ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে একটি বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মাঠের উঁচু-নিচু অংশ সমান করার কাজও করা হয়। গত কয়েক দিন ধরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মাঠে উপস্থিত থেকে এই প্রস্তুতির কাজগুলো তদারকি করেন।
জনসভা বিকেলে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে তাঁরা জনসভাস্থলের দিকে আসতে থাকেন। বেলা আড়াইটার মধ্যেই মাঠ নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়। দুপুর থেকেই মঞ্চে বিএনপির জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য প্রদান করতে থাকেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর উপলক্ষে গতকাল সোমবার জনসভাস্থল পরিদর্শনে যান ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “অল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিতে হলেও রাজশাহীর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা ও আবেগ কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম রাজশাহী সফর। এ কারণে দলীয় নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের মধ্যেও তাঁর আগমন ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে রাজশাহীর উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। তিনি বলেন, “রাজশাহীতে বীজ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা এবং পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হবে। এ ছাড়া রাজশাহীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ ঘোষণার দাবিও তুলে ধরা হবে।”
এর আগে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে এসেছিলেন তারেক রহমান।