প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে পুরো নগরীতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। তবে এবারের সফরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে পুরো নগরীতে কোনো ধরনের ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হবে না। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের কথা রয়েছে।
সফরের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে রাসিক প্রশাসক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরালসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা বুঝাতে চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দয়াবান। তিনি দেশের প্রয়োজনে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি যেসব কাজ পochond করেন না, আমরা সেটি কেউ করব না।” তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে নগরীর পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, সৌন্দর্যবর্ধন, সড়ক সংস্কার এবং জনসভাস্থল প্রস্তুত করার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল দুপুরে নগরীর রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরের দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম রাজশাহী সফর, যা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ নগরবাসীর মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন প্রস্তুতি তদারকি করছেন রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। বিশেষ করে জনসভাস্থল মাদ্রাসা মাঠের প্রস্তুতি, মঞ্চ নির্মাণ, মাঠের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, দেয়াল রং করা এবং মাঠ সংলগ্ন সড়ক সংস্কারের কাজ পুরোদমে চলছে। এর পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন সড়ক বিভাজক ও স্থাপনার সৌন্দর্যবর্ধনে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সফরকালে নগরীর পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল থাকে।
সাধারণত রাজশাহীতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা সরকারপ্রধানের সফরের সময় নগরীর বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রচুর ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ ও প্রচারসামগ্রী টানানোর প্রবণতা দেখা যায়। তবে এবার সেই প্রথা ভেঙে ব্যানার-ফেস্টুন ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় প্রচারসামগ্রী এড়িয়ে চলার একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং সড়ক বিভাজকে রং করার কাজসহ বিভিন্ন স্থাপনার সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে যাতে সবকিছু যথাসময়ে সম্পন্ন হয়।
অন্যদিকে, ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে মঞ্চ নির্মাণসহ যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতির কথা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ফলে মাঠের প্রস্তুতি, প্রবেশপথের ব্যবস্থাপনা, আশপাশের সড়কের নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনসভায় অংশগ্রহণকারী মানুষের চলাচল এবং নগরীর স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখাও তাদের অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
রাজশাহীর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কৃষি খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি, আম, ধান ও আখ উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের বিষয়ে স্থানীয়দের অনেক আশা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে রাজশাহী নগরীতে প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। ব্যানার-ফেস্টুনহীন এক পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগরীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এই সফর থেকে রাজশাহীর টেকসই উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন নগরবাসী।