প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে পুরো নগরীর চেহারা বদলে ফেলার কাজ চলছে। সফরের কথা মাথায় রেখে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ জোরদার করা হয়েছে। কোথাও নতুন করে পিচঢালাই করা হচ্ছে, আবার কোথাও সড়ক বিভাজকগুলোতে দেওয়া হচ্ছে নতুন রং। শহরের দেয়ালগুলোতে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নান্দনিক চিত্রকর্ম। পাশাপাশি সড়ক ও এর আশপাশের এলাকাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভার জন্য মঞ্চ নির্মাণসহ যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের কথা রয়েছে। তাঁকে বরণ করে নেওয়ার লক্ষ্যে বেশ কয়েক দিন ধরেই এই ব্যাপক প্রস্তুতি কার্যক্রম চলছে।

গতকাল রোববার নগরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে শহরের প্রবেশপথ পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে সংস্কারকাজ চলছে। কোথাও নতুন করে পিচঢালাই করা হচ্ছে, আবার কোথাও সড়কের রেলিংয়ে রং করা হচ্ছে। রেলগেট এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি সড়ক ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কারের কাজ চলছে। মহিলা কলেজ রোডে দেয়ালচিত্র আঁকতে দেখা গেছে। সাহেববাজার এলাকাতেও ফুটপাত থেকে ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পক্ষ থেকে নগরের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ আরও জোরদার করা হয়েছে। এর আগে ৬ থেকে ৮ অক্টোবর দরিখরবোনা মোড় থেকে মালোপাড়া, সরকারি মহিলা কলেজ এলাকা, বাটার মোড় ও নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সিটি করপোরেশন। জনসভাস্থল ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মাঠের পাশের সড়ক সংস্কার করা হয়েছে এবং মঞ্চ নির্মাণ ও মাঠ পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান একাধিকবার মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতা, দেয়ালে রং করা, সড়ক সংস্কার ও মঞ্চ নির্মাণের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। প্রয়োজনীয় কাজগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে একটা সুযোগ এসেছে। চলমান কাজগুলো এই ফাঁকে একটু দ্রুত করা হচ্ছে।”

গতকাল মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) শাহীন শওকত এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মাঠের প্রস্তুতি ও অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে গতকাল দুপুরে মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন করেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “অল্প সময়ের মধ্যে সফরের প্রস্তুতি নিতে হলেও রাজশাহীর মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা আছে। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে আখচাষিদের জন্য বিশেষ বার্তা দিতে পারেন।”

প্রধানমন্ত্রীর সফরে রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন দাবি তুলে ধরার পরিকল্পনা আছে জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, এর মধ্যে আছে বীজ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা, রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা এবং পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। এ ছাড়া রাজশাহীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ ঘোষণার দাবিও তুলে ধরা হবে।

প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল বেলা দেড়টায় রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বেলা তিনটায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম রাজশাহী সফর।