ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে যেন মানুষের মাঝে কোনো ধরনের বাধা বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার রংপুরে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে যাওয়ার পথে তারাগঞ্জের চৌপথি এলাকায় এক পথসভায় তিনি এই কথা বলেন। সেখানে তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, ধর্ম যার যার হলেও রাষ্ট্র সবার।

পথসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি। এই দেশের মাটিতেই আমাদের বেড়ে ওঠা। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—ধর্ম যার যার, কিন্তু দেশ আমাদের সবার। এ দেশ আমাদের সবার, এ দেশের ওপর আমাদের সবার অধিকার রয়েছে। এ দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সমান মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

দেশের সামগ্রিক উন্নতির জন্য সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলব—এটাই প্রত্যাশা।’

দিনের কর্মসূচি শুরু করে আজ সকালে সামরিক বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়কপথে রংপুরের দিকে রওনা হন তিনি। বেলা ১১টার দিকে তারাগঞ্জের চৌপথি এলাকায় তিনি গাড়ি থেকে নেমে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দ্বারা প্রস্তুতকৃত মঞ্চে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য রাখেন। প্রায় দেড় থেকে দুই মিনিট স্থায়ী সেই বক্তব্যে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলেন।

এরপর রংপুর মহানগরের দিকে যাওয়ার পথে পাগলাপীরে আরও একটি পথসভায় কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জানান, নির্বাচনে জয়লাভের পর সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো, সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টধর্মসহ সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন। তাঁদের সম্মিলিত ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমরা পেয়েছি আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।’

সব ধর্মের মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যাশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ যেন নিরাপদে বসবাস করতে পারে, স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে এবং সমান মর্যাদা নিয়ে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে।

আজ দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে রংপুর মহানগরের প্রেসক্লাব চত্বরের সামনে অবস্থিত ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। মন্দিরের ভেতরে প্রবেশের পর মন্দির কমিটির সদস্যরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জানান। তবে মন্দিরের ভেতরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে তাদের মাঝে পেয়ে মন্দির কমিটির সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে বেশ কয়েক দিন ধরে মন্দির কমিটি এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্দিরের চারপাশ এবং শহরের প্রবেশপথগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সকাল থেকেই প্রেসক্লাব চত্বরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়েছিলেন।

সফর শেষে ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দির কমিটির সহসভাপতি পার্থ বোস তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা কখনো ভাবিনি, কোনো প্রধানমন্ত্রী আমাদের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসবেন। আমরা তাঁকে পেয়ে খুবই খুশি হয়েছি।’