নতুন চাকরিতে যোগ দিয়ে খুশির মনে বাড়ি ফিরছিলেন ৩০ বছর বয়সী আনোয়ার হোসেন। কিন্তু নাটোরের বড়াইগ্রামে মঙ্গলবার ভোরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি।
নিহত আনোয়ার হোসেন রাজশাহীর বাগমারার শ্রীপুর ইউনিয়নের চাঁইপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো গ্রাম। এখন কেবল তাঁর মরদেহের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন পরিবারের সদস্যরা। বাড়ির পাশেই অবস্থিত পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে বড়াইগ্রামের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে একটি বাস ও ট্রাকের মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষ ঘটে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২৫ জন।
নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও বড়াইগ্রাম থানা সূত্রে জানা গেছে, আরপি পরিবহনের বাসটি বরিশাল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সাথে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করে হতাহতদের নাটোর ও রাজশাহীসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।
আজ সকালে যখন চাঁইপাড়া গ্রামে আনোয়ারের বাড়িতে যাওয়া হয়, তখন সেখানে দেখা যায় গভীর শোকের পরিবেশ। এক দুঃসংবাদের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের ঘুম ভেঙেছে। আনোয়ারের স্ত্রী ফাতেমা বিবি একই উপজেলার কনোপাড়া গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকেই স্বজনরা তাঁর মৃত্যুর খবর পান। এই শোক সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা সান্ত্বনা জানাতে ভিড় করেন তাঁর বাড়িতে।
সকাল নয়টার দিকে বাড়িতে গিয়ে ফাতেমা বিবিকে পাওয়া যায়নি। তবে সকাল ১০টার দিকে তিনি তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন। শোকের তীব্রতায় তিনি বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন এবং কথা বলতে পারছিলেন না।
খবর পাওয়ার পর আনোয়ারের মরদেহ সংগ্রহের জন্য সকালে নাটোরে পৌঁছান তাঁর চাচা আকতার হোসেন। মুঠোফোনে তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘লাশ লিবার আলছি, এখনো পাইনি।’
আনোয়ারের ভাতিজা মিজানুর রহমান জানান, আনোয়ার মূলত ঢাকায় থাকতেন এবং সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি একটি প্রকল্পে নতুন চাকরি পান। সেই চাকরিতে যোগ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের পুঠিয়ায় বাস থেকে নামার কথা ছিল তাঁর। সেখান থেকে বাড়িতে পৌঁছাবেন বলে তিনি মুঠোফোনে পরিবারকে জানিয়েছিলেন।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় আনোয়ারের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁর পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে থানা–পুলিশ বর্তমানে বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।