সৌদি আরবের অন্যতম প্রভাবশালী ও প্রধান বিনিয়োগ সম্মেলনটি এ বছর আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বিবেচনা করে আগামী বছর পর্যন্ত এই সম্মেলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আয়োজকেরা। সম্মেলনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (এফআইআই) নামে পরিচিত এই সম্মেলনটি চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এই বিশেষ আয়োজনে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য শীর্ষ নির্বাহী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের রিয়াদে আসার কথা ছিল।

আয়োজক কমিটি এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ভার্চ্যুয়াল বা অনলাইন মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অন্যান্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে বার্ষিক এই আয়োজনটি পুরোপুরি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবরের জন্য নির্ধারিত এফআইআই সম্মেলনটি আপাতত অনুষ্ঠিত হবে না। আগামী বছর এই সম্মেলনটি ঠিক কবে নাগাদ পুনরায় আয়োজন করা হবে, সেই নির্দিষ্ট তারিখ ‘শিগগিরই’ জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এফআইআই ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহা বিনতে মিশারি আল সৌদ এই স্থগিতাদেশের বিষয়ে বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত আমাদের অংশীদার, সদস্য, বক্তা ও প্রতিনিধিদের প্রতি গভীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হুতিদের একের পর এক হামলা অব্যাহত রয়েছে। তারা দেশটির রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে সৌদি আরবে ভ্রমণ এবং সেখানে অবস্থান করা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বহুগুণ বেড়েছে।

মাহা বিনতে মিশারি আল সৌদ আরও উল্লেখ করেন, ‘এটি আমাদের দশম আসর। তাই আমরা নিশ্চিত করতে চাই, এবারের আয়োজন হবে পূর্ণাঙ্গ, অসাধারণ মানের ও স্মরণীয়। আমাদের কমিউনিটি যেমন প্রত্যাশা করে, তেমন আয়োজন হোক।’

প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, বহুজাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী এবং আর্থিক খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা সৌদি আরবের এই বিনিয়োগ সম্মেলনে ভিড় জমান। এই ব্যাপক গুরুত্ব ও প্রভাবের কারণে সম্মেলনটি বিশ্বজুড়ে ‘দাভোস ইন দ্য ডেজার্ট’ বা ‘মরুভূমির দাভোস’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

উল্লেখ্য, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে প্রতি বছর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই বিশ্বখ্যাত সম্মেলনের সাথে সাদৃশ্য এবং গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই সৌদি আরবের এই বিনিয়োগ সম্মেলনকে ‘মরুভূমির দাভোস’ বলা হয়।

আয়োজকদের মতে, ‘এ সিদ্ধান্ত আমাদের অংশীদার, সদস্য, বক্তা ও প্রতিনিধিদের প্রতি গভীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’

পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই সম্মেলনে সৌদি আরবের অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী বিনিয়োগ পরিকল্পনাগুলো বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হয়। দেশটির মূল লক্ষ্য হলো তেল ও গ্যাসনির্ভর প্রথাগত অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে পর্যটন, খেলাধুলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর এক আধুনিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। আর এই রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ দেশটিতে আকৃষ্ট করাই এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।

এফআইআই-এর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের সম্মেলনে অ্যালফাবেট ও গুগলের প্রেসিডেন্ট রুথ পোরাট, গোল্ডম্যান স্যাকস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও ডেভিড সলোমন এবং ব্ল্যাকরকের চেয়ারম্যান লরেন্স ফিঙ্কের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে হুতিদের ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে রিয়াদসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে তাদের আক্রমণ সৌদি আরবে ভ্রমণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্বের প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রী এবং আর্থিক খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতির কারণে এই আয়োজনটি ‘দাভোস ইন দ্য ডেজার্ট’ বা ‘মরুভূমির দাভোস’ হিসেবে পরিচিত।

বর্তমানে ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীর সাথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে হুতিরা। এই লড়াইয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সরাসরি হুতিদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আর এই রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের জেরেই সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে মনে করা হয়।