সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের একের পর এক হামলার ঘটনায় দেশটিতে যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে দেশটির প্রধান বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করছেন আয়োজকেরা।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত অন্তত দুজন ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এবারের সম্মেলনে উচ্চপদস্থ নির্বাহীদের সরাসরি উপস্থিতির পাশাপাশি অনলাইনে যোগ দেওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চলতি মাসের শেষ দিকে 'ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ' (এফআইআই) নামের এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক প্রতিনিধি রিয়াদে যাওয়ার কথা রয়েছে।

সরাসরি অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানান, অনেক প্রতিনিধিই এখন রাজধানীর বাইরের কোনো বিমানঘাঁটি অথবা প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবতরণ করে সেখান থেকে সড়কপথে রিয়াদে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

এই পরিস্থিতির বিষয়ে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলেও নির্ধারিত সময়েই বিনিয়োগ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে।

এফআইআই-এর একজন গণমাধ্যম প্রতিনিধি রয়টার্সকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের একটি বিবৃতি দেখান। উল্লেখ্য, গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটার আগেই এই বিবৃতিটি দেওয়া হয়েছিল।

সেই বিবৃতিতে এফআইআই ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহা আল সৌদ ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রিচার্ড আতিয়াস বলেন, ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভের দশম আসরে রিয়াদে হাজারো প্রতিনিধিকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের নিরাপত্তা আর সুস্থতা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে বড় কয়েকটি তেল কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা তাদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, বিনিয়োগ সম্মেলনে সরাসরি ও অনলাইনে অংশ নেওয়ার দ্বৈত সুযোগ দেওয়া হলে আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সৌদি আরব বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ আকর্ষণের যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা বজায় রাখতে চায়।

তবে হুতিদের সাথে ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠা সংঘাতের কারণে এই প্রচেষ্টা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এর ফলে রিয়াদকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার যে উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মূলত জ্বালানি তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি গঠন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা তুলে ধরতেই সৌদি আরবে এফআইআই সম্মেলন আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন দেশের নেতা-মন্ত্রী, বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী এবং আর্থিক খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা এই সম্মেলনে অংশ নেন। এই ব্যাপক গুরুত্ব ও প্রভাবের কারণে সম্মেলনটি বিশ্বজুড়ে ‘মরুভূমির দাভোস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে প্রতিবছর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই বিশ্বখ্যাত সম্মেলনের সাথে সাদৃশ্য রেখে সৌদি আরবের এই বিনিয়োগ সম্মেলনটিকে এই নামে ডাকা হয়।

উল্লেখ্য, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে দেশটির সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে সৌদি আরব। এর প্রতিক্রিয়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইতিমধ্যে চার দফা হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে গত শনিবারের হামলায় ১৩ জন নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন।