দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রায় প্রতিদিনই এই মূল্যবান ধাতুর মূল্যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। নতুন এই সমন্বয়ের ফলে ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। বাজুসের পক্ষ থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পর্যন্ত এই সর্বশেষ সমন্বিত দামেই স্বর্ণ বিক্রি চলবে।

বাজুসের নির্ধারিত বর্তমান মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের ক্ষেত্রে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা।

গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন মূল্য তালিকা কার্যকর করা হয়। উল্লেখ্য যে, এর আগে ৯ অক্টোবর বাজুস স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করেছিল। সেই সময়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা।

স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামেও নিম্নগতি দেখা গেছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা ৪ হাজার ১৯৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বর্ণ ও রুপার গহনা তৈরির মজুরি নকশার ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। গহনা বিক্রির সময় ঘোষিত বিক্রয়মূল্যের সাথে প্রযোজ্য ভ্যাট যুক্ত থাকবে, তবে ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট আলাদাভাবে আদায় করা যাবে না।

এছাড়া অলংকারের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অলংকার ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দেশের সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুসের এই নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।