আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব দেশীয় বাজারেও পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশ্ববাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে প্রায় প্রতিদিনই স্বর্ণের দাম পরিবর্তিত হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারিত হয়েছে।

সর্বশেষ মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ৬৯১ টাকা হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা। উল্লেখ্য, সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে এই নতুন দর কার্যকর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১৯ হাজার ৬৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ৬৯১ টাকা কমে ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা হয়েছে, যেখানে এর আগে মূল্য ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।

একইভাবে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দামেও এসেছে পরিবর্তন। প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এক হাজার ৫৭৪ টাকা কমে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা করা হয়েছে। এর আগে এই মানের স্বর্ণ প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকায় বিক্রি হতো।

অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম এক হাজার ৩৪১ টাকা হ্রাস করে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সর্বশেষ ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ৭৫৮ টাকা কমে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা করা হয়েছে; এর আগে এই দাম ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।

স্বর্ণের দাম কমলেও রূপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। রূপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা এবং প্রতি গ্রামের দাম ৩৭০ টাকা।

২১ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরির দাম ৪ হাজার ১৪১ টাকা এবং প্রতি গ্রামের দাম ৩৫৫ টাকা। ১৮ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরির দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং প্রতি গ্রামের দাম ৩০৫ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা এবং প্রতি গ্রামের দাম ২৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস আরও জানিয়েছে, অলংকারের নকশা ও কারুকাজের ওপর ভিত্তি করে মজুরি নির্ধারিত হবে। স্বর্ণ ও রৌপ্যালংকারের বিক্রয় মূল্যের সাথে ভ্যাট যুক্ত করা হয়েছে, তাই গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে কোনো ভ্যাট নেওয়া যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে।

পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত দেশের সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।