ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে জমি দখলের চেষ্টা, চাষাবাদে বাধা প্রদান এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় বিএনপি নেতা মজিবুর রহমানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। ফলে তাঁকে কারাগারে যেতে হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের এই আদেশের ফলে কারাগারে যাওয়া মজিবুর রহমান বিজয়নগর উপজেলার চর ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশায় তিনি মোহাম্মদপুর মাদ্রাসার একজন দপ্তরি।

মামলার বাদী রফিক মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সিমরাইলকান্দি এলাকার বাসিন্দা ফজলুল হকের ছেলে।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিজয়নগর উপজেলার চর ইসলামপুর ইউনিয়নের মামদপুর মৌজার ২০৫ নম্বর বিএস খতিয়ানের ৬৮৪ নম্বর দাগে অবস্থিত ২২ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ বিদ্যমান।

অভিযোগে জানানো হয়েছে, বিরোধপূর্ণ ওই জমিটি বাদীপক্ষের পরিবারের মালিকানাধীন। কিন্তু ওই জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে এই মামলায়।

বাদী রফিক মিয়ার দাবি, জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তাঁরা বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতির শিকার হয়েছেন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আইনি প্রতিকার চেয়ে তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হন।

এই ঘটনার বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন জানান, “কেউ অন্যায় করলে এবং আদালতের রায়ে অপরাধী প্রমাণিত হলে এর দায়ভার দল নেবে না।” তিনি আরও জানান, অনেক দিন আগের জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলা চলছিল বলে তিনি শুনেছেন। ওই মামলায় আদালত মজিবুর রহমানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, মোহাম্মদপুর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠান খোলার পর তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”