ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক বিশেষ অভিযানে ১২ কোটি ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা মূল্যের ১৫ হাজার ৪৮টি ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে জব্দ করা হয়েছে। বিজিবির ধাওয়া খেয়ে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি পাচারকারী দল কার্টনগুলো ফেলে পালিয়ে যায়।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ভাগলপুর এলাকায় এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। বিজিবির টহল দল যখন তাদের লক্ষ্য করে ধাওয়া করে, তখন পাচারকারীরা নিজেদের বহন করা কার্টনগুলো ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরাইল ব্যাটালিয়নের (২৫ বিজিবি) অধীন আলীনগর বিওপির একটি টহল দল সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভাগলপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। ঠিক সেই মুহূর্তে ভারতের দিক থেকে মাথায় কার্টন নিয়ে বেশ কয়েকজনকে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখে টহল দল তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে তারা কার্টনগুলো ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
পরবর্তীতে ফেলে যাওয়া কার্টনগুলো তল্লাশি করে দেখা যায়, স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ১৫ হাজার ৪৮টি ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে রয়েছে। জব্দ করা এই ডিসপ্লেগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ কোটি ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। জব্দকৃত মালামালগুলো বর্তমানে আখাউড়া কাস্টমস কার্যালয়ে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বিজিবি আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মাদকদ্রব্যের চোরাচালান রোধে পরিচালিত অভিযানে ১০ হাজার ৬৫৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪৭২ কেজি গাঁজা, ১ হাজার ১৮৭ বোতল ইস্কাফ, ২৭৫ বোতল বিদেশি মদ ও ১৭৮ বোতল বিয়ার জব্দ করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এক বছরে সরাইল ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা থেকে মোট ১২৯ কোটি ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৭৪ টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১২৩ কোটি টাকা মূল্যের অন্যান্য চোরাচালানি পণ্য রয়েছে। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ২৫ জনকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
সরাইল ব্যাটালিয়নের (২৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির টহল তৎপরতা এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও আখাউড়া এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।”