বাড়ির সামনেই ওত পেতে ছিল একদল দুর্বৃত্ত। ঘর থেকে বের হয়ে সামনের দিকে যেতেই তাঁকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ফখরুল আলম ওরফে রতনকে (৫০) উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আজ সোমবার বিকেলে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিচরণ লস্কর গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। সন্ধ্যার দিকে তাঁকে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফখরুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এতে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
নিহত ফখরুল আলম ওই গ্রামেরই মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি একসময় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি বাড়িতে থেকে নিজের জমিজমা দেখাশোনা করতেন।
নিহতের স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে সামনের দিকে যাওয়ার সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করা কয়েকজন দুর্বৃত্ত ফখরুল আলমকে ঘিরে ধরে। এরপর অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায় তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হামলাকারী দুর্বৃত্তরা। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং তাঁকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এই বিষয়ে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল কুমার মণ্ডল বলেন, “স্থানীয় পূর্বশত্রুতার জেরে কিংবা অন্য কোনো কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।