রংপুরের কাউনিয়ায় মুদি দোকানকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মারামারির ঘটনায় এক বৃদ্ধ বাবার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু গুলশান মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত মহির উদ্দিন (৬০) ওই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মহির উদ্দিনের ছোট ছেলে রশিদুল ইসলাম নেশাগ্রস্ত ছিলেন। তার এই অভ্যাসের কারণে বাবা ও বড় ভাই মাইদুল ইসলাম তাকে মুদি দোকানে বসতে দিতেন না। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ ও মনমালিন্য চলছিল। বুধবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে রশিদুল জোর করে দোকানে ঢুকে টাকা নিতে যায়। বড় ভাই মাইদুল যখন তাকে বাধা দেন, তখন তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তা মারামারিতে রূপ নেয়।

এদিকে, ঠিক সেই সময়ে উপজেলা সদর বাজার থেকে মুদির সামগ্রী কিনে মোটরসাইকেলযোগে দোকানের সামনে পৌঁছান মহির উদ্দিন। চোখের সামনে দুই ছেলের মারামারি দেখে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং মোটরসাইকেল থেকে নিচে পড়ে যান। পরে স্বজনরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কাউনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই ছেলের মারামারি সহ্য করতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মহির উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, মহির উদ্দিন এর আগেও দুইবার স্ট্রোক করেছিলেন। চিকিৎসকেরা তাকে হার্টে রিং পরানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন, তবে আর্থিক সচ্ছলতার অভাবে তা সম্ভব হয়নি।

কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ছেলেদের মারামারি দেখে বাবার মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বর্তমানে মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। নিহতের বড় স্ত্রীর ছেলে জেলার বাইরে থেকে আসার পর দাফন ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল ৬টা) মরদেহটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় রাখা ছিল।