হরমুজ ও বাব আল–মানদেব প্রণালিকে কেন্দ্র করে বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে যদি অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তেলের দাম ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশের জন্য এই সংকট কেবল জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা নয়; বরং এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, শিল্প উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। অন্যদিকে, সৌদি আরবের বিকল্প তেল পরিবহনব্যবস্থা এবং তাদের ভূরাজনৈতিক নমনীয়তা এই ধরনের সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধান, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করাই হতে পারে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর পথ।
সত্তরের দশকের তেল নিষেধাজ্ঞার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি ব্যবস্থা আবারও এক কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা, ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি এবং লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা ও বাব আল–মানদেব প্রণালিতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা আর কেবল বাণিজ্যিক বিষয় হয়ে থাকেনি; এটি এখন জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
এই সংকটের গভীরতা বুঝতে আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করা জরুরি। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) ও এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দৈনিক তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ২০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। একই সঙ্গে বৈশ্বিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উল্লেখযোগ্য অংশও এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে বাব আল–মানদেব প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়, যা ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদি এই দুটি নৌপথে একযোগে অচলাবস্থা তৈরি হয়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে এক দ্বিমুখী সংকট দেখা দিতে পারে। তেলের মূল্যবৃদ্ধি, সামুদ্রিক পরিবহনে ঝুঁকি এবং বিমার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার চাপ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলবে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে রিয়াদ ও ঢাকা থেকে আসা দুটি বার্তা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সৌদি আরব প্রমাণ করছে যে, বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা ও পরিচালনগত নমনীয়তার মাধ্যমে সংকটের অভিঘাত কীভাবে সামাল দেওয়া যায়। অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আমদানিনির্ভরতা কমানো, নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধান এবং দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
সম্প্রতি রিয়াদে অনুষ্ঠিত ২৫তম ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কংগ্রেসে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান জ্বালানিব্যবস্থার সক্ষমতা ও সংকট কাটিয়ে ওঠার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। জ্বালানিব্যবস্থাকে ফিনিক্স পাখির সঙ্গে তুলনা করে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো, সংকটের মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে সব পক্ষের সহযোগিতামূলক ভূমিকা থাকতে হবে। সৌদি আরব বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে এই কৌশলের বাস্তব প্রয়োগ দেখিয়েছে। দেশটির পূর্ব–পশ্চিম পাইপলাইন হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে লোহিত সাগরের বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানির সুযোগ তৈরি করেছে। পাইপলাইনটির কার্যকর পরিবহনক্ষমতা ও বাস্তবে ব্যবহারের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে এর মাধ্যমে কতটা সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে বিকল্প রপ্তানির পথ হিসেবে এর কৌশলগত গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সংকটের সময়ে এমন অবকাঠামো সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
সৌদি আরবের এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। শুধু জ্বালানি আমদানির উৎস বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; বরং সরবরাহের পথ, সংরক্ষণক্ষমতা ও বিকল্প ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে। কারণ, কোনো একটি নির্দিষ্ট নৌপথ বা সরবরাহকারীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সংকটের সময় অর্থনৈতিক ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের জ্বালানিবিষয়ক পরিকল্পনায় আর্থিক সুরক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এগুলোতে পিছিয়ে থাকলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকে পড়বে। বৈশ্বিক অস্থিরতা বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি আমদানি ব্যয় বাড়াতে পারে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং শিল্পের উৎপাদন ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের জ্বালানিবিষয়ক পরিকল্পনায় আর্থিক সুরক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এগুলোতে পিছিয়ে থাকলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকে পড়বে।
রিয়াদে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যে রূপরেখা তুলে ধরেছেন, তার মূল লক্ষ্য আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো। এ লক্ষ্যে কামতা–২–সহ তিতাসে চারটি নতুন কূপে একযোগে খনন শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুনের মধ্যে এসব কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের সামগ্রিক জ্বালানি কৌশল তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, আর্থিক সুরক্ষা। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত সামাল দিতে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও এজেডইসি প্লাস জোটের সঙ্গে দুই বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিল গঠনের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের তহবিল বাস্তবায়িত হলে তা আমদানি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে অর্থায়নের উৎস, শর্ত, বাস্তবায়ন কাঠামো ও অর্থ ছাড়ের ওপর।
দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য সামনে রেখে ১০ বছর মেয়াদি জ্বালানি কৌশলের কথা বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা কাটানো, শিল্পের জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে এ ধরনের পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি চাহিদার বাস্তবসম্মত পূর্বাভাস, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তৃতীয়ত, নিজস্ব সম্পদ অনুসন্ধান। ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক ও ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ত্রিমাত্রিক সিসমিক জরিপের পাশাপাশি নতুন প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্র্যাক্ট মডেল পিএসসি–২০২৬–এর মাধ্যমে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অনুসন্ধানের ফলাফল, নতুন কূপের উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাস্তবায়নের অগ্রগতিই শেষ পর্যন্ত এ উদ্যোগের সাফল্য নির্ধারণ করবে।
সামুদ্রিক নৌপথে হামলা ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় আক্রমণের নিন্দা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে সুরক্ষার আহ্বান এ ক্ষেত্রে দুই দেশের স্বার্থের অভিন্নতা তুলে ধরে। তবে কূটনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করাও জরুরি। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা। সামুদ্রিক নৌপথে হামলা ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় আক্রমণের নিন্দা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে সুরক্ষার আহ্বান এ ক্ষেত্রে দুই দেশের স্বার্থের অভিন্নতা তুলে ধরে। তবে কূটনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করাও জরুরি।
বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা শুধু অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি, জ্বালানি অবকাঠামোয় বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পেও এ সহযোগিতা বিস্তৃত হতে পারে। এর ফলে জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘ মেয়াদে এ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। সৌদি জ্বালানিমন্ত্রীর ‘ধীর ও বিবেচিত রূপান্তর’ দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের জন্য এমন একটি পরিকল্পনা প্রয়োজন, যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা, সাশ্রয়ী সরবরাহ ও পরিবেশগত স্থায়িত্বকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সৌদি প্রতিষ্ঠান আকওয়া পাওয়ারসহ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ খাতে আকৃষ্ট করা এবং স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর শুধু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের বিষয় নয়; এর জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত নীতিমালা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, আধুনিক সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থা, জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প। একই সঙ্গে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের উৎপাদন আবহাওয়া ও সময়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিদ্যুৎ–ব্যবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখতে উন্নত গ্রিড ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগও অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে জ্বালানি রূপান্তরের সময় বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি না হয়। পাশাপাশি জ্বালানির অপচয় রোধ, শিল্পকারখানায় দক্ষ প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা আমদানির ওপর চাপ কমাতে পারে।
জ্বালানি নিরাপত্তা এখন আর কেবল চাহিদা ও জোগানের হিসাব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক নৌপথের নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহব্যবস্থার বিকল্প ও কূটনৈতিক অংশীদারত্ব। হরমুজ ও বাব আল–মানদেব প্রণালিকে ঘিরে অস্থিরতা দেখিয়ে দিচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা একটি দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানিব্যবস্থাকে কতটা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। সৌদি আরবের বিকল্প পরিবহন অবকাঠামো, বাংলাদেশের দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তর পরিকল্পনা—এই তিন ক্ষেত্রের সমন্বয়ই সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানির উৎস ও পরিবহনপথের বৈচিত্র্য, সংরক্ষণক্ষমতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ঢাকা ও রিয়াদের সহযোগিতা যদি বাস্তব বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে রূপ নেয়, তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আরও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগে পরিণত করা সম্ভব। সংকটের সময় শুধু তাৎক্ষণিক সমাধান খোঁজা নয়, ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তোলাই হবে প্রকৃত কৌশলগত সাফল্য। বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো, জ্বালানি নিরাপত্তাকে বিচ্ছিন্ন কোনো খাত হিসেবে না দেখে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, কূটনীতি, শিল্পায়ন ও পরিবেশগত স্থায়িত্বের সমন্বিত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
ড. মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ।