ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিকত্ব সনদ কিংবা পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগের মতো প্রয়োজনীয় সেবার জন্য এখন থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সেবাগ্রহীতারা। সরকারি সেবার সমন্বিত ওয়েব পোর্টাল ‘মাইগভ’-এ দেশের ১৫টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ১৯ ধরনের নাগরিক সেবা যুক্ত করা হয়েছে। এই সেবাসমূহ সহজলভ্য করতে বোর্ডভেদে মোট ১৮৫টি অনলাইন আবেদন ফরম উন্মুক্ত করা হয়েছে। আজ সোমবার মাইগভের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আজ বিকেলে এক ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসপায়ার টু ইনোভেটের (এটুআই) প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং বক্তব্য প্রদান করেন সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শামীম আহম্মেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ই-গভর্নেন্স অধিশাখার যুগ্মসচিব ও এটুআইয়ের যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল হাসান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও শিক্ষা) শেখ জাহিদুল ইসলাম, রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ক্যান্টনমেন্ট নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল করিম এবং সাভার ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা শেহেলী লায়লা। এই ভার্চ্যুয়াল সভায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও এটুআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ১৩টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তারা অংশ নেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের নিজস্ব উদ্যোগে এই সেবাগুলো মাইগভ পোর্টালে যুক্ত করা হয়েছে। পুরো উদ্যোগটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এটুআইয়ের কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে সেবাগ্রহীতারা এখন ঘরে বসেই আবেদন করতে পারবেন। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইনে ফি পরিশোধের সুবিধা এবং কিউআর কোডযুক্ত সনদ সংগ্রহের সুযোগ থাকছে। এছাড়া আবেদনের বর্তমান অগ্রগতি জানা এবং প্রাপ্ত সেবা সম্পর্কে মতামত দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। কিউআর কোডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সত্যতা যাচাই করা যাবে সহজেই।
মাইগভ পোর্টালে যুক্ত হওয়া সেবাসমূহের মধ্যে রয়েছে নাগরিকত্ব, উত্তরাধিকার, চারিত্রিক ও পারিবারিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, পরিচয়পত্রসংক্রান্ত সেবা, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ এবং যানবাহনের পাস। এর পাশাপাশি সড়ক খনন বা রাস্তা কাটার অনুমতি, রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশার লাইসেন্স, পোষা প্রাণী পালনের অনুমোদন এবং ডেভেলপার তালিকাভুক্তির সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, প্রচলিত পদ্ধতিতে আবেদন দাখিল, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া, ফি পরিশোধ এবং সনদপত্র সংগ্রহের জন্য সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কার্যালয়ে যেতে হতো। এমনকি একটি নির্দিষ্ট সেবা পেতেও তাঁদের একাধিকবার যাতায়াত করতে হতো। এতে যেমন বাড়তি সময় ও অর্থের অপচয় হতো, তেমনি সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। এই সমস্যাগুলো দূর করে নাগরিক সেবা সহজতর করাই এই ডিজিটাল উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এই কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের দুটি সেবা মাইগভে যুক্ত করে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম চালানো হয়। এরপর বাকি ১৪টি বোর্ডের সেবা অনলাইনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনটি পৃথক কর্মশালার মাধ্যমে মোট ৬৩ ধরনের নাগরিক সেবা পর্যালোচনা করে ১৯ ধরনের মৌলিক সেবা চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে সাতটি আঞ্চলিক কর্মশালায় অনলাইন আবেদন ফরম, সেবার ফি এবং সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া যাচাই করে চূড়ান্ত করা হয়। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে এই প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট ১৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
এখন থেকে একই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আবেদন গ্রহণ, যাচাই, তদন্ত, প্রক্রিয়াকরণ ও নিষ্পত্তি করতে পারবে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডগুলো। এর মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজে কাগজনির্ভরতা কমিয়ে আনা এবং সেবা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।