ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ৮৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হলেও বাস্তবে তার কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। গত তিন মাস ধরে এসব বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে। এর ফলে অনলাইন হাজিরা প্রদান এবং জরুরি দাপ্তরিক তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে চরম সংকটে পড়েছেন শিক্ষকরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দাপ্তরিক কার্যক্রম সচল রাখতে অনেক শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে মোবাইল ডাটা কিনে অথবা স্থানীয় সংযোগের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি)-১ম সংশোধিত’ প্রকল্পের আওতায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট আইসিটি ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রতিটি স্কুলে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলের মাধ্যমে ২০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হয়। তবে সংযোগ স্থাপনের পর তিন মাস ধরে সেবা না পাওয়ায় শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, ইন্টারনেট সংযোগ চালুর পর মাসিক বিল সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে বহন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল রাখার জন্য নির্দিষ্ট দায়িত্বও নির্ধারিত করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও সাপাহার উপজেলার ৮৩টি স্কুলে এই ডিজিটাল উদ্যোগের কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

সাপাহার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, “অফিসিয়াল নানা কাজে ইন্টারনেট এখন অপরিহার্য। কিন্তু সংযোগ থাকলেও তিন মাস ধরে কোনো কাজ হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে নিজ দায়িত্বে নতুন করে স্থানীয় ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।”

একই কথা জানান দমদমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাকারিয়া আলম। তিনি জানান, সংযোগ পাওয়ার পর শুরুতে কাজের গতি বাড়লেও গত তিন মাস ধরে ইন্টারনেট নিষ্ক্রিয় থাকায় তারা বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন।

রামাশ্রম ও ওড়ুনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরাও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। শিক্ষক শামীম আহমেদ বলেন, “নিয়মিত অনলাইনে হাজিরা দেওয়া এবং তা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। ইন্টারনেট না থাকায় এখন পকেট থেকে টাকা খরচ করে ফোনে এমবি কিনে দাপ্তরিক কাজ সারতে হচ্ছে।”

এই সংকটময় পরিস্থিতি সম্পর্কে সাপাহার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহেদুল্লাহ প্রামাণিক জানান, গত তিন মাস ধরে বিভিন্ন স্কুল থেকে ইন্টারনেটে সমস্যা থাকার বিষয়টি তাদের জানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বারবার অবহিত করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। দ্রুত ঊর্ধ্বতন মহলের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে আইটি ইঞ্জিনিয়ার শওকত হোসেন সুইটের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে জানান, তাদের সার্ভারে কিছুটা কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এই সমস্যা হচ্ছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করা হবে। তবে শিক্ষকদের তিন মাস ধরে সেবা না পাওয়ার যে অভিযোগ, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।