৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়া সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে একটি সম্পূরক গেজেট প্রকাশ করে বঞ্চিতদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

আজ সোমবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন গেজেটবঞ্চিত প্রার্থীরা। কর্মসূচির এক পর্যায়ে তাঁরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— পুনঃ গেজেট প্রকাশের একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা; নিয়োগের ক্ষেত্রে যাদের কোনো আইনগত বাধা নেই, তাঁদের বিষয় পুনর্বিবেচনা করে সম্পূরক গেজেট প্রকাশ করা; গেজেট থেকে বাদ পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ লিখিতভাবে জানানো; প্রার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় এই সংকটের নিষ্পত্তি করা।

এই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ৪৫তম বিসিএসের মৎস্য ক্যাডারের সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী মনিরুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কী কারণে তাঁকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না। কোনো অপরাধ না করেও চাকরি থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। তিনি ঘোষণা করেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো সদর্থক সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা না পাওয়া গেলে আগামী ২৩ অক্টোবর ‘আত্মাহুতি’ কর্মসূচি পালন করবেন তিনি।

মনিরুজ্জামান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের একজন শিক্ষার্থী। তিনি জানান, দীর্ঘ চার-পাঁচ বছর নিরলস পরিশ্রম করে তিনি বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তবে গেজেট থেকে বাদ পড়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাচ্ছেন না তিনি। গত চার-পাঁচ দিন ধরে তিনি ঢাকায় বিভিন্ন দপ্তরে এবং বিভিন্ন মানুষের কাছে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

আবেগপ্লুত হয়ে মনিরুজ্জামান আরও বলেন, ‘কোনো অপরাধ না করে কেন শাস্তি পেতে হবে? আমি আমার বাবা-মায়ের কাছে কী জবাব দেব, তা জানি না।’ গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন।

একই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আরেক প্রার্থী ফেরদৌস খান জানান, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। তা সত্ত্বেও বিসিএস নিয়োগের গেজেট থেকে বাদ পড়ায় তিনি চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি, অবিলম্বে এই বৈষম্য দূর করে মেধার ভিত্তিতে অর্জিত চাকরিটি তাঁকে ফিরিয়ে দিতে হবে।

ফেরদৌস খান আরও উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তাঁরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। ন্যায়বিচারের আশায় তাঁরা বাড়ি ছেড়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁদের অধিকাংশ প্রার্থীই কৃষক ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের সহকর্মীরা গেজেট প্রকাশের পর এখন চাকরিতে যোগদানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অথচ তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ফেরদৌস খান স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমরা দয়া-দাক্ষিণ্য চাই না। মেধার মাধ্যমে যে চাকরি পেয়েছি, সেই চাকরিই ফিরে পেতে চাই।’ দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ হস্তক্ষেপ কামনা করেন।