৪৫তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদের জন্য সুপারিশ পেয়েছিলেন বগুড়ার বাসিন্দা ফাহিম ফয়সাল। দীর্ঘ চার বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং কঠোর পরিশ্রমের পর স্বপ্নের ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের এই প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
তবে বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় চরম হতাশায় ভেঙে পড়েছেন ফাহিম এবং তার পরিবারের সদস্যরা।
বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফাহিম ফয়সাল জানান, বিসিএসের মেধা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ৪০তম। তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি মামলা নেই এবং তিনি কখনোই কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। ফলে গেজেটে তার নাম কেন বাদ গেল, সেই কারণ সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছেন।
নিজের বর্তমান মানসিক অবস্থা ও অনুভূতি প্রকাশ করে ফাহিম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলাম না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকে পড়াশোনা করেছি। গেজেটে নাম না দেখে মা-বাবা ভেঙে পড়েছেন, আমার মনের অবস্থাও ভালো নেই। বিসিএস পাওয়ার পর বিগত বছরগুলোতে অন্য কোনো চাকরির জন্যও চেষ্টা করিনি।”
বুধবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট প্রকাশ করে। সেখানে নিজের নাম খুঁজে না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফাহিম।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ। সহকারী পুলিশ সুপার (সুপারিশপ্রাপ্ত)। Not-Gazetted। ঠিক কোন অপরাধে আমাকে গেজেট বঞ্চিত করা হলো, তা জানি না। রাষ্ট্রের উচিত সেটা স্পষ্ট করে জানানো। অপরাধ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক, যেন তার প্রায়শ্চিত্ত করতে পারি। আর যদি কোনো অপরাধ না থাকে, তবে আমাকে আমার প্রাপ্য সুযোগ দেওয়া হোক। অনার্স রেজাল্ট হওয়ার আগেই ২০২২ সালে ৪৫তম বিসিএসের সার্কুলার পাই। প্রথম বিসিএস হওয়ায় আবেগও ছিল তুঙ্গে। দিনরাত এক করে কীভাবে পরিশ্রম করেছি, তা কাছের মানুষেরা দেখেছে। প্রথম বিসিএসেই পছন্দের ক্যাডার পেয়ে যাওয়ায় পরবর্তী ৪৬ বা ৪৭তম বিসিএসে আর অগ্রসর হইনি। লিখিত বা ভাইভা দিলে হয়তো অন্য চাকরিও হতে পারত।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অন্য চাকরিপ্রার্থীদের কথা বিবেচনা করে তিনি কাউকে বঞ্চিত করতে চাননি, কিন্তু আজ তিনি নিজেই বঞ্চিত হলেন। ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ চার বছর অতিবাহিত করে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করেও তাকে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে বিদেশে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, তাকে আগে সঠিক মনে করতেন; যদিও অনেকে বলতেন এই দেশে মেধার মূল্যায়ন নেই। পোস্টের শেষে তিনি লিখেছেন, “ভালো থাক বাংলাদেশ।”
পোস্টের শেষে ‘বঞ্চিত ৫৬ জনের গেজেট চাই’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ফাহিম কেবল নিজের জন্য নয়, বরং সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেট থেকে বাদ পড়া বাকিদের জন্য যুক্তিসংগত গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।