দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত নিয়োগ গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। বুধবার দিবাগত রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ১ হাজার ৭০২ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় অথবা বিভাগের নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২২-এর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সুপারিশ করেছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নবম গ্রেডে ৪৪ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা বেতনক্রমে তাদের চাকরিতে যোগদান করবেন।

উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালের নভেম্বরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ৪৫তম বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালের মে মাসে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

পরীক্ষার সব ধাপ সম্পন্ন করার পর ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর পিএসসি চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে। সে সময় বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য ১ হাজার ৮০৭ জনকে সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত সুপারিশের পর ১০ মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রার্থীদের, এরপর অবশেষে প্রকাশিত হলো নিয়োগের গেজেট। সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ৭০২ জন নিয়োগ পেয়েছেন।

৪৫তম বিসিএসের প্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটলেও পরবর্তী দুটি বিসিএসের সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতা তাদের কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত পরিকল্পনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৪৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। সে সময় পিএসসি ১ হাজার ৪৫৭ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে সুপারিশ করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নিয়োগ গেজেট প্রকাশিত না হওয়ায় তাদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। গেজেটের অপেক্ষায় ইতিমধ্যে ২৩৫ দিন পার করেছেন এই প্রার্থীরা।

অন্যদিকে, ২৮ জুন প্রকাশিত ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে ক্যাডার পদে ১ হাজার ৩২০ জন এবং নন-ক্যাডার পদে ২০১ জনকে সুপারিশ করা হয়। ফল প্রকাশের পর চার মাসেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও সরকার এখনো তাদের নিয়োগ গেজেট প্রকাশ করেনি।

বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নিয়োগ গেজেট পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার এই ঘটনা এবারই প্রথম নয়। সাম্প্রতিক কয়েকটি বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়াতেও একই ধরনের বিলম্ব লক্ষ্য করা গেছে।

যেমন, ৪১তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়েছিল ২০২৩ সালের আগস্টে। তবে নিয়োগের গেজেট প্রকাশ করতে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, যার ব্যবধান ছিল প্রায় ২৩১ দিন।

৪৩তম বিসিএসের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশ করা হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। প্রথম নিয়োগ গেজেট প্রকাশিত হতে সময় লেগেছিল প্রায় ২৯৪ দিন; সেটি প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালের অক্টোবরে।

৪০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নিয়োগ গেজেট পেতে লেগেছিল ২১৬ দিন। তবে তুলনামূলকভাবে ৪৪তম বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়া কিছুটা দ্রুত সম্পন্ন হয়েছিল। ২০২৫ সালের নভেম্বরে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়।

বিশেষ বিসিএসের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ অপেক্ষার নজির রয়েছে। চিকিৎসকদের জন্য আয়োজিত ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নিয়োগ গেজেট পেতে প্রায় ১৩৩ দিন সময় লেগেছিল। অন্যদিকে, শিক্ষকদের জন্য অনুষ্ঠিত ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের নিয়োগ গেজেট প্রকাশ করা হয় ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর।

৪৫তম বিসিএসের নিয়োগ গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশের অপেক্ষার অবসান হলেও পরবর্তী বিসিএসগুলোর প্রার্থীদের অনিশ্চয়তা এখনো শেষ হয়নি। চূড়ান্ত সুপারিশের পর নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লাগায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বিসিএসগুলোর সময়সীমা পর্যালোচনায় দেখা যায়, চূড়ান্ত ফল প্রকাশ এবং নিয়োগ গেজেট জারির মধ্যবর্তী সময়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়াকে আরও সময়োপযোগী ও গতিশীল করার বিষয়টি এখন নতুন করে আলোচনায় আসছে।