‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে গ্রেপ্তার হওয়া সিফাতের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রাজু ভাস্কর্যে সংগঠনটি এক কর্মসূচির মাধ্যমে এই দাবি জানায় এবং সরকারের প্রতি বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার আহ্বান জানায়।

সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, সিফাতের ব্যবহৃত ভাষা বা গালিগালাজের কোনোভাবেই সমর্থন করা হয় না। রাজনীতিবিদ, রাষ্ট্রীয় ব্যক্তি বা সাধারণ নাগরিক—সবাইকে শালীনতা ও দায়িত্বশীলতার সীমার মধ্যে থেকে কথা বলতে হবে। তবে একজন তরুণের একটি ভুলের জন্য তাকে দীর্ঘদিন আটক রাখা বা দমনমূলক ব্যবহারের শিকার করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে সংগঠনটি মনে করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিষয়টি উদার ও মানবিকভাবে বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত জামিন ও মুক্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরপরই গঠিত বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে জনগণ এমন একটি বাংলাদেশ চান, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় কাউকে হয়রানি, মিথ্যা মামলা বা নির্বিচারে গ্রেপ্তার করতে হবে না। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিরোধী মত ও বিপ্লবীদের দমন ও হয়রানির যে সংস্কৃতি ছিল, তা আর যেন বর্তমান বাংলাদেশে পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে নজর রাখতে সংগঠনটি সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার এড়িয়ে চলতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে এবং নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে।

কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে আ ন ম আয়াস বলেন, সর্বোপরি অবিলম্বে সিফাতকে মুক্তি দিতে হবে। আমরা গালিগালাজের পক্ষে নই, কিন্তু একটি ভুলের কারণে কোনো তরুণকে দমন-পীড়নের শিকার করাও মেনে নেওয়া হবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় তারা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চান। সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করলে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম বিপ্লবী ও সচেতন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী কঠোর ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

এ সময় সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম বাদশা, সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন ফরাজী ও সংগঠক মারিয়ম মোকাদ্দাস মিস্টি বক্তব্য দেন। কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন.