ঘরের দেয়ালে লেখা, ‘আজ থেকে এই গল্প শেষ। আমি অভাগী মা।’ বিছানায় পড়ে ছিল দুই শিশুর নিথর দেহ। আর ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলছিল এক নারীর মরদেহ। দেয়ালে লেখা কথাগুলো ঘিরে ঘটনাটির রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর বালুপাড়ায় একটি বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত নারীর নাম স্বর্ণা বেগম (২০)। তার দুই সন্তান সাফায়াত হোসেন (২) ও রাইফা জুরাইনা (৯ মাস)। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বর্ণার স্বামী শাকিল হোসেন (২৬), তার শ্বশুর মাহাতাব উদ্দীন (৫০) ও শাশুড়ি রজমত আলা তারাবিবিকে (৪২) আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুই সন্তানকে হত্যার পর স্বর্ণা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, শাকিল প্রায়ই স্বর্ণাকে মারধর করতেন। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের দাবি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে শাকিলের সঙ্গে স্বর্ণার বিয়ে হয়। স্বর্ণা পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ি এলাকার খাইরুল ইসলামের মেয়ে। শাকিল ইজিবাইক চালানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
রোববার সন্ধ্যার আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শাকিল বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে বাড়িতে ফিরে স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ দেখতে পান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে।
ঘরের দেয়ালে লেখা ছিল, ‘আজ থেকে এ গল্প শেষ। আমি অভাগী মা। আমার সন্তানদের নিজে মারছি। সন্তানদের পুলিশের কাছে দিয়েন না। লাশ পলাশবাড়িতে মাটি দেন। শাকিল যেন না ছোঁয়। বাবা-মা, সরি। আই লাভ ইউ।’ লেখাটি কে লিখেছেন, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
এ ঘটনায় স্বর্ণার বাবা খাইরুল ইসলাম এ ঘটনায় চিরিরবন্দর থানায় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেন দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম বলেন, হৃদয়বিদারক ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাকিলসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখন বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।