দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় ছাগলের শিমখেত খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের জেরে এক নারী ও তাঁর দুই ছেলেকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে ওই পরিবারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানপাড়া এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।

আহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন চেয়ারম্যানপাড়ার বাসিন্দা ছফিরউদ্দিনের স্ত্রী মমতাজ বেগম (৬৫) এবং তাঁর দুই ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন (২৫) ও আবদুল মোত্তালেব (৪৪)। গুরুতর আহত মোয়াজ্জেম বর্তমানে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের ২৮ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, আবদুল মোত্তালেবকে আজ বুধবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই হামলার ঘটনায় চিরিরবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যানুসারে, গত সোমবার সকালে মমতাজ বেগমের একটি ছাগল মুন্সীপাড়া এলাকার প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলামের শিমখেতে ঢুকে পড়ে এবং শিমগাছের পাতা খেয়ে ফেলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন বিকেলে সিরাজুল ইসলাম মমতাজ বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। সেই সময় মমতাজের ছেলে মোয়াজ্জেমের সঙ্গে সিরাজুলের কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

তবে এই পুরো ঘটনায় সিরাজুল ইসলাম বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মমতাজের বড় ছেলে আবদুল মান্নানের অভিযোগ, গত সোমবারের ঘটনার রেশ ধরে মঙ্গলবার সকালে সিরাজুল তাঁর ছেলে সোহেল রানাসহ (২৫) আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনাম ব্যক্তিকে নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালান। অভিযোগ করা হয়েছে যে, হামলাকারীদের অনেকের হাতেই ধারালো চাকুসহ দেশি অস্ত্র ছিল। বাড়িতে ঢুকে তাঁরা পুনরায় গালাগাল শুরু করেন এবং ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে ঘরের দরজা ভেঙে ফেলেন। এরপর মোয়াজ্জেম ও আবদুল মোত্তালেবের সঙ্গে সিরাজুলের সঙ্গে আসা লোকজনের মারামারি শুরু হয়। এতে মোয়াজ্জেমের কপালে, কানে এবং ডান বাহুতে গুরুতর জখম হয়। মেজভাই আবদুল মোত্তালেবের বাঁ হাতে আঘাত লাগে। এছাড়া ওই সময়ে তাঁর মা মমতাজ বেগমকেও মারধর করা হয়। হামলাকারীরা মমতাজ বেগমের গলায় থাকা সোনার চেইন এবং ঘরের ওয়ার্ডরোবে রাখা টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে গেলে দেখা যায়, মোয়াজ্জেম হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন এবং তাঁর ক্ষতস্থানে সেলাই দেওয়া হয়েছে। পাশে তাঁর স্বজনরা বসে ছিলেন। স্বজনরা জানান, আহত দুই ভাইকে প্রথমে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনা প্রসঙ্গে চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী বলেন, “মারধরের ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”