নেপালের বিপক্ষে সাম্প্রতিক লড়াইয়ের ইতিহাস খুব একটা সুখকর ছিল না বাংলাদেশের জন্য। সর্বশেষ দুইবার মুখোমুখি লড়াইয়েই পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলকে। এই নেতিবাচক স্মৃতি এবং বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির আজকের ম্যাচে নেপাল নারী দলকেই ফেবারিট হিসেবে গণ্য করেছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে মাঠের লড়াইয়ে সব হিসাব উল্টে দিয়ে চমক দেখিয়েছে স্বাগতিকরা।

পল্টনের শহীদ (ক্যাপ্টেন) এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে সব ধরণের সংশয় ও শঙ্কা দূর করে এক দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসোর নির্দেশনায় নেপালকে ৩৩–২০ গোলে পরাজিত করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

কোচ আনা আলোনসোর জন্য এই ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তাঁর অধীনেই এটি ছিল বাংলাদেশ নারী দলের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আর এই বিশেষ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রেখেছেন দলের তারকা খেলোয়াড় আলপনা, যিনি একাই সাতটি গোল করে ম্যাচসেরার খেতাব জিতে নিয়েছেন।

ম্যাচ শেষে পুরোনো পরাজয়ের স্মৃতি মুছে ফেলার আনন্দ প্রকাশ করে আলপনা বলেন, “২০১৯ এসএ গেমসে আমরা নেপালের কাছে হেরেছিলাম, ওই ক্ষোভটা মনের মধ্যে ছিল। আজ জিততে পেরে ভালো লাগছে।”

তবে জয় পাওয়া সহজ ছিল না। ম্যাচের প্রথমার্ধেই সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশের সাকিবা জান্নাতকে। একজন খেলোয়াড় কম হয়ে যাওয়ায় স্বাগতিকদের জন্য লড়াইটা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আত্মবিশ্বাস হারায়নি দলের সদস্যরা।

সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে আলপনা জানান, “সাকিবা লাল কার্ড দেখার পর সবাই একটু হতাশ হয়ে যায়। আমি ব্যক্তিগতভাবে তখন সবাইকে বলেছি, চিন্তার কিছু নেই। আমাদের মনোবল হারালে চলবে না। শেষ পর্যন্ত লড়তে হবে।”

নেপালকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শুভ সূচনা করলেও সামনে এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ। আগামীকাল শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। তবে প্রতিপক্ষের শক্তির কথা মাথায় রেখেই জয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আলপনা। তিনি বলেন, “আমাদের পরের ম্যাচ ভারতের সঙ্গে। তারা শক্তিশালী দল। তবে আমরা জয়ের জন্যই নামব।”