মালদ্বীপের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির ফাইনালে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল। ম্যাচে ৩৩–২০ গোলের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে শিরোপার লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে তারা। আগামী পরশু বেলা তিনটায় ফাইনালের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে ভারত। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের ব্রোঞ্জ পদক জয়ের লড়াইয়ে আজ বেলা দুইটায় মুখোমুখি হবে মালদ্বীপ ও নেপাল।
খেলার শুরু থেকেই মালদ্বীপ কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করলেও সেই প্রতিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বাংলাদেশের আক্রমণাত্মক খেলার সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে মালদ্বীপের রক্ষণভাগ। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ১৬–৫ গোলের বিশাল ব্যবধান গড়ে নেয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে মালদ্বীপের মেয়েরা ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের আধিপত্যের সামনে তারা ব্যর্থ হয়।
পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে মালদ্বীপের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। আগের ম্যাচেই তারা ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। তবে সেই হতাশা কাটিয়ে আজকের ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে তারা। মূলত গতির লড়াইয়ে মালদ্বীপের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। দলের মোট ৩৩ গোলের মধ্যে আটটি গোলই করেছেন সানজিদা আক্তার, যার ফলে তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন।
ফাইনালে আবারও শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে এই দলের কাছেই ৪৭–১৩ গোলের ব্যবধানে হেরেছিল তারা। ফাইনালের আগে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন আজকের ম্যাচসেরা সানজিদা। তিনি বলেন, “তারা শক্তিশালী দল। তারপরও আমাদের চেষ্টা থাকবে যতটা ভালো করা যায়। নিজেদের মাঠে খেলা। শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়তে চাই।”
ভারতের তুলনায় নিজেদের দলের পিছিয়ে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে সানজিদা জানান, নিয়মিত অনুশীলন এবং প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের অভাবই মূল সমস্যা। তাঁর মতে, “তারা আমাদের থেকে হাজার গুণে ভালো। কারণ, তারা নিয়মিত অনুশীলন করে, সারা বছর ক্যাম্প, ম্যাচের মধ্যে থাকে। আমাদের সেই পরিমাণ ক্যাম্প হয় না। কোনো একটা টুর্নামেন্টের আগে কয়েক মাস ক্যাম্প হয়; আর ম্যাচ তো খুবই কম খেলি।”
টুর্নামেন্টের শুরুটা হয়েছিল নেপালকে হারিয়ে। এরপর ভারতের কাছে পরাজয় এবং সবশেষে মালদ্বীপের বিপক্ষে জয়ের মাধ্যমে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, ফাইনালে ওঠার পথে তিন ম্যাচে অপরাজিত থেকেছে ভারত।