ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন পুণ্যার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আসা একটি ট্রাক পুণ্যার্থীদের ওপর উঠে যাওয়ায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় আরও অনেক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গতকাল শনিবার গভীর রাতে শীতলা মাতা মন্দিরের নিকটবর্তী একটি পুলিশ চেকপোস্ট বা তল্লাশিচৌকি ভেঙে ট্রাকটি পুণ্যার্থীদের ভিড়ের ওপর উঠে যায়। এরপর ট্রাকটি মন্দিরের প্রধান ফটক এবং বাইরের দেয়ালে সজোরে ধাক্কা মারে।
গোয়ালিয়রের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার (এসএসপি) ধর্মবীর সিং জানান, রাত দেড়টার দিকে ধানবোঝাই ট্রাকটি একটি খাড়া ঢালে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। উল্লেখ্য, ওই ঢালে ভারী যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ট্রাকটি পুলিশের বসানো ব্যারিকেড ভেঙে পুণ্যার্থীদের ওপর দিয়ে চলে যায় এবং মন্দিরের দেয়ালে আঘাত করে।
ঘটনা প্রসঙ্গে ধর্মবীর সিং বলেন, ‘নবরাত্রি উপলক্ষে শীতলা মাতা মন্দিরে অনেক পুণ্যার্থী এসেছিলেন। খাড়া ঢালে ধানবোঝাই ট্রাকটিকে থামানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি ব্যারিকেড ভেঙে পুণ্যার্থীদের চাপা দেয়। দায়িত্ব পালনকালে দুই পুলিশ সদস্যও আহত হন, তাঁদের চিকিৎসা চলছে।’
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় হাসপাতালে মোট ৩৯ জন আহত ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে ২৯ জনের মতো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
গোয়ালিয়রের কালেক্টর রুচিকা চৌহান জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
রুচিকা চৌহান আরও জানান, ‘হাসপাতালে আহত ৩৯ জনকে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এখন ২৯ জনের মতো চিকিৎসাধীন আছেন। পাঁচ–ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব করা হচ্ছে।’
নবরাত্রি উৎসবের কারণে ওই সড়কে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট ও ব্যারিকেড থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একটি বিশাল ট্রাক ভেতরে প্রবেশ করতে পারল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ট্রাকটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তা যাচাই করতে আরটিও (রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট অফিস) থেকে একটি দল পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ট্রাকটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি পরিমাণে ধান বোঝাই করা ছিল। রাত একটার দিকে হঠাৎ করেই ট্রাকটি রাস্তার পাশের দোকান এবং মানুষের ওপর উঠে যায়, যার ফলে বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এই ঘটনার পর এলাকায় এখনো চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে, ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী এবং আহত একজনের ভাই জানান, ট্রাকটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ধানবোঝাই করা ছিল। তিনি বলেন, ‘রাত একটার দিকে আচমকা ট্রাকটি এসে রাস্তার পাশের দোকান ও মানুষের ওপর উঠে যায়। বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আমার ভাইও গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।’