সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর এলাকায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই পৃথক দুর্ঘটনাগুলোতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম মাখেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা (বর্তমানে সিলেট নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার বাসিন্দা) হাসানুজ্জামানের তিন মাস বয়সী শিশুসন্তান আয়াত এবং রাজবাড়ীর কালুখালী এলাকার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী হাসান প্রামাণিক। এছাড়া দুর্ঘটনায় নিহত আরও এক নারীর পরিচয় এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর থানার বিরাইমারা সেতুর নিকট দুটি প্রাইভেটকারের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষে দুই গাড়ির মোট ৪ থেকে ৫ জন যাত্রী আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিশু আয়াতকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে একই মহাসড়কের জৈন্তাপুরের ফেরিঘাট এলাকায় জাফলংগামী একটি পর্যটকবাহী বাসের সাথে সিলেটগামী পাথরবোঝাই একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে কাদায় পড়ে যায় এবং বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা হতাহত হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তামাবিল হাইওয়ে পুলিশ ও জৈন্তাপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজবাড়ী থেকে আসা পর্যটক হাসান প্রামাণিকসহ আরও একজনের মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় আহত আরও ৫ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, রাজবাড়ী থেকে একদল পর্যটক ছয় দিনের জন্য সিলেট ভ্রমণে এসেছিলেন। শনিবার দুপুরে তারা বাসে করে জাফলংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পথে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্চয় চক্রবর্তী জানান, “প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশু এবং বাস-ট্রাক সংঘর্ষে দুই পর্যটক মারা গেছেন। মরদেহ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।”