নিরঙ্কুশ উড়ে যাচ্ছে কিছু ফানুসকিচেন নাইফ ধার হারাচ্ছে রোজত্যক্ত হয়ে উঠছে চপিং বোর্ডকাটতে গিয়ে পিছলে যাচ্ছে বলেপেঁয়াজদেরও কষ্ট হচ্ছে খুবচোখ দুটোও জ্বলছে বেশি বেশিহাত হারাচ্ছে মনোযোগ ক্রমশপিছলে যাচ্ছে সাবানমাখা বাসনচমকে উঠছে নীরব সাবার্বিয়াডেকে নিশ্চুপ পড়শির পোষা শিৎযুভাঙ্গা কাচের টুকরো ছিটকে গিয়েখাবারে মিশে করছে খুনের প্ল্যাননির্বিকার ফেটে লীন বুদ্বুদকোথাও কোনো প্রমাণ থাকছে না
যখন ঘুমাই প্রাগৈতিহাসিক গাধা বানিয়ে কারা হাঁটায় আমাকে বেয়ে ওঠায় উচ্চতায় পাথরের অরণ্যে ফসিলের মাঠে মেঘের কাদায় চোখ মেলতেই হয়ে উঠি সন্তপ্ত ধুলোমাটির স্তূপ অসংখ্য সারি সারি নিষ্পলক চোখের গোরস্তানে
হাত ফসকে খসে পড়ে চায়ের কাপনিরুপায় তাকিয়ে দেখি আরগতিবিদ্যার অঙ্ক কষি মনে,গ্যালিলিওকেও মনে পড়ে যায়।অতি ধীরে নিদারুণ এই ঘটমান বর্তমানএক অপেক্ষা তৈরি করে, গৃহস্থালিরনীরবতা এই বুঝি ভেঙে চৌচির হবে।এই অবসরে কোত্থেকে কিনেছি কত দামে,কী দিয়ে তৈরি হয় কাচ মনে পড়ে যাবে।কতবার ঠোঁটজোড়া আলতো করেছুঁয়ে গেছে ওটা আর মেখেছেতোমার অন্তরঙ্গ শ্বাস, কত দিনতাকিয়ে দেখেছে আমাদের যুগল বসবাস।শুনেছি মৃত্যুর ঠিক আগেমনে পড়ে এ রকম আজন্মের স্মৃতিপতন দেখতে দেখতে তাই মৃত্যুহীনজড়ের অংশ হয়ে মহাকাল দেখি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকেজানানো হয়েছে যেনিউইয়র্ক শহরের পাঁচটি বরোতে আজদিনটি থাকবে বেশস্মৃতিকাতরতায় মোড়া।সকাল থেকে হালকা দুঃখেরছিটেফোঁটা পড়তে পারেদুপুরে কিছুটা নির্জনতারগর্জন শোনা যাবে,সন্ধ্যার দিকে তা তীব্র হয়েএকাকিত্বের রূপ নিতে পারে।বিষাদের মৃদু হাওয়া থেকে থেকে বইবেরাতে কিছুটা বেড়ে গিয়ে তাকষ্টের ঝড়েও পরিণত হতে পারে।বাতাসের আর্দ্রতা থাকবে বিরহকাতরতাপমাত্রা থাকবে শীতল অভিমানে ভরা।সাবধান থাকতে বলা হচ্ছে সকলকেবিষণ্নতার ফ্লাশ ফ্লাড থেকে।
মিগেল,প্রায়ই তুমি থাকো না যেখানে তুমি আছো।গাড়ি চালিয়ে বহুদূর এসে হঠাৎ বুঝতে পারোপথের দিকে তাকিয়ে থেকেও এতক্ষণ কিছুই দেখোনি।একেকটা সম্পর্ক বদলে যেতে থাকে পথের দু পাশের মতো। তুমি অনুপস্থিত।তারপর হঠাৎ হিসেব করতে বসে টের পাও একে একে হারিয়েছ শৈশব, কৈশোর, পিতা কিংবা স্বজন, একজোড়া করুণ প্রতীক্ষাবিভোর চোখ, অভিমানি ঠোঁট, নিষ্ঠুর কোনো ভালোবাসার শহর কিংবা দূষিত একটা নদী।হারিয়েছ মৌলিক নাগরিক অধিকার আররক্তের প্রতিবাদী সব শ্বেতকণিকা। তোমার আবেগ কবিতা ঘৃণা আর প্রেমআউটডেটেড হয়ে গেছেবহু বছর আগের ফ্যাশনের মতো।রবিবারে প্রার্থনালয়ে গিয়ে চেয়ে দ্যাখো নিজেরপরিশ্রমী খসখসে কর্কশ দু হাতের তালুরাএক হয়ে প্রার্থনা করছে।বাইরে সাঁজোয়া যান তোমার অপেক্ষায়। ফেরার কি সময় হলো? কোথায় ফিরবে তুমি?






