শহরের অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত ‘মৌচাক’ বেকারির খাদ্যপণ্য তৈরির নেপথ্যে উঠে এল চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র। একটি গরুর খামারের পাশেই অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছিল এই প্রতিষ্ঠানের পাউরুটি, বিস্কুট ও চানাচুরসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল, এসব পণ্যের গায়ে উৎপাদন কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণের কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
গতকাল শনিবার রাতে নাটোর শহরের ওই বেকারির কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নেতৃত্বাধীন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। আদালতের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানের মালিক আরিফ হোসেনকে আটক করা হয়। তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং অনাদায়ে দুই মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। তবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করার পর ওই ব্যবসায়ী মুক্তি পান।
বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম আলীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গতকাল সন্ধ্যায় শহরের আমহাটি এলাকায় অবস্থিত মৌচাক মিষ্টান্ন ভান্ডারের বেকারি কারখানায় অভিযান চালায়। এই দলে জেলা ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও সেনেটারি ইন্সপেক্টর উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে দেখা যায়, একই প্রতিষ্ঠানের একটি গরুর খামারের ঠিক পাশেই অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাউরুটি, বিস্কুট ও চানাচুরসহ নানা খাদ্যপণ্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এছাড়া উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ সংবলিত কোনো লেবেল ছাড়াই বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য মজুত করে রাখা হয়েছিল।
কারখানার মালিক আরিফ হোসেন আদালতের সামনে এসব অভিযোগ স্বীকার করে নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে দুই মাস কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে জরিমানার টাকা পরিশোধ করে তিনি মুক্তি পান।
আদালতের পেশকার মানিক চন্দ্র মুক্তকণ্ঠকে জানান, “কারখানাটি এমন জায়গায় তৈরি করা হয়েছে, যা দেখলে বোঝার উপায় নাই কোনটি বেকারি কারখানা, কোনটি গরুর খামার। কারখানার কাঁচামাল বাসি, পচা ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া যায়। পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের লেবেল লাগানোর বিধান থাকলেও তা না করে পণ্য দোকানে নেওয়ার সময় লেবেল লাগানো হচ্ছিল।”