দেশের নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থার কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহায়তায় ১৮টি জেলার নিরাপদ খাদ্য কার্যালয়ে মিনি-ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের মোট ৬৪টি জেলা এবং আটটি মহানগর কার্যালয়ের পরীক্ষাগারগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে এই সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) পরিদর্শন, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে জাইকার কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়িত STIRC প্রকল্পের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএফএসএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “জাইকা বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী। দীর্ঘদিন ধরে জাপান আমাদের অন্যতম বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে কাজ করে আসছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা, দক্ষতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জাইকার কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়িত STIRC প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রকল্পের অর্জনগুলো দেশে একটি শক্তিশালী, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, খাদ্যশিল্প ও জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।”

জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র প্রতিনিধি ইজুমি শোজি অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে বলেন, “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু কারিগরি বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, জনগণের আস্থা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।” বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বিএফএসএর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি এই উদ্যোগে জাপানকে অংশীদার করার জন্য কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানান।

বিএফএসএ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে জাইকার কারিগরি সহযোগিতায় STIRC প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়ে আসছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল নিরাপদ খাদ্য সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমের উন্নয়ন, খাদ্য পরিদর্শন ও নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া জোরদার করা, পরীক্ষাগারের কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো।

প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ খাদ্য আইন, বিধিমালা, মানদণ্ড এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় যেসব সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা, নমুনা সংগ্রহকারী এবং পরীক্ষাগারের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ে খাদ্য পরীক্ষা, নমুনা বিশ্লেষণ এবং খাদ্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঝুঁকি শনাক্ত করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ক্যান্টিনকর্মীদের নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মিষ্টি প্রস্তুতকারীদের জন্য প্রশিক্ষক তৈরির পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারির কর্মী ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাশাপাশি খাদ্য ব্যবসায়ীদের জন্য প্রশিক্ষণ সহায়িকা, খাদ্য স্থাপনা পরিদর্শনের চেকলিস্ট এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। ভালো উৎপাদন পদ্ধতি (GMP) এবং জাপানিজ 5S কাইজেন পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল প্রচারণার মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিএফএসএ প্রশিক্ষণ কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির সচিব ও STIRC প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) শ্রাবস্তী রায়। অনুষ্ঠানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বিএফএসএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, খাদ্য ব্যবসায়ী, উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।