যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘকাল ধরে 'ফুটবল' বলতে মানুষ ডিম্বাকৃতির বল নিয়ে শারীরিক লড়াইয়ের এনএফএল-কে বুঝে এসেছে। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আগাম উন্মাদনা কি আমেরিকার সেই চেনা মানচিত্র বদলে দিচ্ছে? বিশ্বমঞ্চের উত্তেজনা এখন স্তিমিত হলেও, তা রেখে গেছে এক বিশাল পরিবর্তনের ঢেউ। আমেরিকার হৃৎপিণ্ডে সকার যেন এখন নতুন এক আমেজ ছড়িয়ে দিচ্ছে।
বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নিলসেনের সাম্প্রতিক তথ্যে এই পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এক বছর আগের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলভক্তের সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৬৮ লাখ। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এসে সেই সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৫২ লাখে। অর্থাৎ, গত ১২ মাসে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ৮৪ লাখ ফুটবলপ্রেমী। ২০২২ সালের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার ২৭ শতাংশ। শুধু তাই নয়, ঘরোয়া মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) সমর্থক সংখ্যাই বেড়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ।
ক্লাব ফুটবলের প্রতি এই ক্রমবর্ধমান আগ্রহ প্রতিবেদনের অন্যান্য তথ্যেও ফুটে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স চ্যানেলে প্রচারিত এমএলএসের ম্যাচগুলোতে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণ দর্শকদের সংখ্যা বেড়েছে ৫৫ শতাংশ। স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচ দেখার হার গত বছরের তুলনায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে তরুণদের অংশগ্রহণ একলাফে ৬০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ দেখার হারও ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপ চলাকালীন এই জনপ্রিয়তার সংকেত অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল। স্প্যানিশ ভাষার টেলিমুন্দোতে প্রতি ম্যাচে গড় দর্শক ছিলেন ৬৩ লাখ এবং ফক্সে এই সংখ্যা ছিল ৭৭ লাখের বেশি। গত ১৯ জুলাই স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার রোমাঞ্চকর ফাইনালটি গড়ে দেখেছেন ৬ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ। আমেরিকান টেলিভিশনের ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সুপার বোল ৬০-এর পর এটিই সেখানে টেলিভিশনে সবচেয়ে বেশি দেখা অনুষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই ইতিবাচক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে উত্তর আমেরিকার ফুটবল লিগ এমএলএসও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তারা স্লোগান দিয়েছে, “ধন্যবাদ বিশ্ব, এবার থেকে আমরা সামলাব।” এই প্রভাব সরাসরি ক্লাবের টিকিট কাউন্টারেও দৃশ্যমান। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের টিকিট বিক্রি বেড়েছে ২১৮ শতাংশ এবং ন্যাশভিল এসসির অনলাইন টিকিট বিক্রির হার বেড়েছে ১৬১ শতাংশ।
নিলসেনের বৈশ্বিক ক্রীড়াপ্রধান শেথ লাদেৎস্কি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা এখন শুধুই রেকর্ড স্পর্শ করেনি, তা তরুণ ও বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।”
যদিও যুক্তরাষ্ট্রে এনএফএল (আমেরিকান ফুটবল), এনবিএ (বাস্কেটবল) ও এমএলবির (বেসবল) মতো জনপ্রিয় লিগগুলোর তুলনায় ফুটবল এখনো কিছুটা পিছিয়ে, তবুও আশাবাদী এমএলএস কর্তৃপক্ষ। এমএলএস কমিশনার ডন গারবারের মতে, আসল স্বপ্নটি দীর্ঘমেয়াদি। তিনি মনে করেন, ফুটবল দেখার এই বর্তমান অভ্যাসটি কেবল সাময়িক উন্মাদনা হয়ে থাকবে না, বরং এটি একটি স্থায়ী অভ্যাসে রূপ নেবে।