দুর্গাপূজার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ঢাকার কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসে মুক্তি পেয়েছে দুটি দেশীয় চলচ্চিত্র— ‘স্নেহের বন্ধন’ ও ‘কাট–পিস’। তবে মুক্তির শুরু থেকেই চরম দর্শকসংকটে ভুগছে এই দুটি সিনেমা। প্রেক্ষাগৃহটির সন্ধ্যার একটি প্রদর্শনীতে ‘স্নেহের বন্ধন’ সিনেমার ৩৭টি টিকিট বিক্রি হলেও দেখা গেছে, এর মধ্যে ৩৫টি টিকিটই কিনেছেন ছবিটির প্রচারণায় আসা প্রযোজক, পরিচালক, নায়ক-নায়িকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অর্থাৎ, সাধারণ দর্শকদের আগ্রহে বিক্রি হয়েছে মাত্র দুটি টিকিট। অন্যদিকে, একই দিনে ‘কাট–পিস’ সিনেমার মাত্র আটটি টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।
লায়ন সিনেমাসের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা আবদুল খালেক শনিবার সন্ধ্যায় মুক্তকণ্ঠকে জানিয়েছেন, মুক্তির প্রথম দিনে সিনেমা দুটির একাধিক প্রদর্শনীতে কোনো দর্শকই উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি আজ শনিবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত ছবি দুটির দুটি প্রদর্শনীতে একটি টিকিটও বিক্রি হয়নি।
‘স্নেহের বন্ধন’ সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয় চৌধুরী ও মৌ খান। প্রযোজক শাহ আলমের এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন কামরুজ্জামান। মুক্তির আগে ছবিটির নায়ক-নায়িকা ও প্রযোজক ছাদখোলা বাসে করে ঢাকা শহরে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমের নির্দিষ্ট কিছু পেজের মাধ্যমেও সিনেমাটি নিয়ে প্রচারণা চালানো হয়। সিনেমা মুক্তির পর চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কিছু পেজে দাবি করা হয় যে, সিনেমাটি দেখে কেউ কাঁদতে কাঁদতে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বের হচ্ছেন, আবার কোথাও বলা হয় এটি পরিবার নিয়ে দেখার মতো একটি ছবি।
তবে প্রচারণার এই উজ্জ্বল চিত্রের সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহের টিকিট বিক্রির বাস্তব হিসাবের কোনো মিল নেই। মির্জা আবদুল খালেকের মতে, সিনেমা মুক্তির আগে প্রচারণায় প্রচুর অর্থ ব্যয় করলেও দর্শক টানতে না পারলে সেই উদ্যোগের কোনো সুফল পাওয়া যায় না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই ধরনের সিনেমা চালানোর অনুরোধ যখন আমাদের করা হয়, তখন একটা কথাই বলি—সিনেমা চালানোর আগে পোস্টার ছাপানোসহ প্রচারণার নানা কাজে তো টাকাপয়সা খরচ হয়। এই ধরনের সিনেমা বানিয়ে একধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, আবার মুক্তির আগেও খরচ। অনুরোধ না করলে আমারও ছবিটি চালাতে হয় না। এতে বিদ্যুৎ, এসির খরচসহ আরও নানা খরচ থেকে বেঁচে যাই। কিন্তু কে শোনে কার কথা! তারা যদি ছবি না চালাত, আমারও লোকসান একটু কম হতো।’
দর্শকের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে এই প্রেক্ষাগৃহমালিক আরও বলেন, ‘সারা দিন শোতে কোনো টিকিট বিক্রি নাই। সন্ধ্যায় ৩৭টি টিকিট বিক্রি হয়েছে, যার ৩৫টি সিনেমার মানুষদের! এমনটা করে দেশের সিনেমা তো আগাবে না। ভালো সিনেমা বানাতে হবে। এরপর প্রচারণা করলে সিনেমা এমনিতেই দেখতে আসবে মানুষ। সবচেয়ে বড় বিষয়, সিনেমা দেখার পর মুখে মুখে প্রচার না হলেও হয় না।’
জানা গেছে, ‘স্নেহের বন্ধন’ সিনেমাটি লায়ন সিনেমাস ছাড়াও দেশের আরও ১৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। তবে সেসব সিনেমা হলে ছবিটির দর্শক উপস্থিতি খুব একটা সন্তোষজনক নয়। একইভাবে দর্শকসংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ‘কাট–পিস’ সিনেমাটিও।