ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে (ডিআরএমসি) অত্যন্ত উদ্দীপনা ও উৎসাহের সাথে সম্পন্ন হয়েছে ‘৩য় ডিআরএমসি ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সামিট ২০২৬’। কলেজের নিজস্ব সংগঠন ‘ডিআরএমসি বিজনেস অ্যান্ড ক্যারিয়ার ক্লাব’-এর উদ্যোগে এই বিশেষ সামিটের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির capacity-তে উপস্থিত থেকে প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা সততা, মানবিক মূল্যবোধ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয়ে বিশ্বমানের উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলে।
গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি এই চমৎকার আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল organizers এবং শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্থকতা শুধু ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য সঠিকভাবে প্রস্তুত করে তোলার মধ্যেই এর প্রকৃত সাফল্য নিহিত। আজকের এই বিজনেস সামিট সেই বৃহত্তর শিক্ষাদর্শনেরই এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।”
বর্তমান বিশ্বের বাণিজ্য পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তির প্রভাব আলোচনা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যবসা-বাণিজ্য এখন আর কোনো নির্দিষ্ট দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বিশ্বব্যাপী ব্যবসার ধরনকে দ্রুত পরিবর্তিত করছে। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থীও তার মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও যথাযথ দক্ষতার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না; সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য জ্ঞান, দক্ষতা, সততা, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা অর্জন করা অপরিহার্য।
ব্যবসায়িক নৈতিকতা এবং ইসলামী দৃষ্টিকোণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি মহানবী (সা.)-এর হাদিসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কাজ। প্রতিষ্ঠানটি এমন এক প্রজন্মের উদ্যোক্তা তৈরি করতে আগ্রহী, যারা কেবল মুনাফা অর্জনের কথা ভাববে না, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে, তবে কখনোই নীতি-নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সাথে কোনো আপস করবে না।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠন এবং সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পথপ্রদর্শক হিসেবে তিনি ৫টি বিশেষ পরামর্শ প্রদান করেন:
১. থিংক গ্লোবালি, অ্যাক্ট লোকালি: আন্তর্জাতিক বাজার এবং বিশ্বমানের দক্ষতা সম্পর্কে অবগত থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা ও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া।
২. উদ্ভাবনী চিন্তা : প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে যেকোনো সমস্যার কার্যকর সমাধান খোঁজা, কারণ প্রতিটি বড় উদ্যোগের সূচনা ঘটে একটি ছোট চিন্তার মধ্য দিয়েই।
৩. প্রযুক্তিগত দক্ষতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডেটা অ্যানালিটিক্স, ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফিনটেক (FinTech) সহ আধুনিক ব্যবস্থাপনায় পারদর্শী হওয়া এবং প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা।
৪. যোগাযোগ ও নেতৃত্ব: দলগত কাজের অভ্যাস গড়ে তোলা, নিজের ধারণা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা এবং অন্যের মতামতকে সম্মান জানানো।
৫. নৈতিকতা: সাময়িক সুবিধার জন্য কখনো সততা বিসর্জন না দেওয়া। দক্ষতা সুযোগ এনে দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য আনে সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা।