চাঁদপুরের মতলব উত্তরে তিন সন্তানের জননী হাসনেহেনা আক্তারের (৩০) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনার পর নিহতের স্বামী, ছেংগারচর সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. শাহাবুদ্দিনকে (৪৬) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের জামতলা গ্রামে অবস্থিত নিহতের নিজ বাড়ি থেকে হাসনেহেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অন্য এক নারীর সঙ্গে শাহাবুদ্দিনের প্রেমের সম্পর্কের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে চরম অশান্তি বিরাজ করছিল। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে হাসনেহেনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলেও দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হাসনেহেনা ও শাহাবুদ্দিন দম্পতির দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, মোহনপুর ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা গ্রামের কেয়া আক্তার ইভার সঙ্গে শাহাবুদ্দিনের সম্পর্ক নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই জটিলতা নিরসনে পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

নিহতের খালা সালমা বেগম বলেন, ‘আমার ভাগনি অত্যন্ত মেধাবী ও ধৈর্যশীল ছিল। তার স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর আমরা তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শোনেননি। এ নিয়ে তাদের সংসারে অশান্তি চলছিল।’

অন্যদিকে, নিহতের চাচাতো ভাই আবুল হোসেন ও শাহজালাল শিকদার জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তারা বাড়িতে গিয়ে হাসনেহেনার মরদেহ দেখতে পান। মৃত্যুর ধরন ও পরিস্থিতি দেখে তাদের মনে সন্দেহ জেগেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

হাসনেহেনার মা আফিয়া বেগমও তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, স্বামীর অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে হাসনেহেনার সাথে বিরোধ ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মতলব উত্তর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বাবুল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে মেঝেতে শুইয়ে রেখেছিলেন। তিনি আরও জানান, সেই সময় গলায় ব্যবহৃত ওড়নাটি ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, “নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”