রাজধানীর উত্তরায় ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অন্তরালে সরকার বিরোধী একটি চক্র দেশে নাশকতার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে দাবি পুলিশের।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরার রাজলক্ষ্মী এলাকায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পঞ্চম দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করে পোশাক শ্রমিকরা। পরে বাধা দিলে পুলিশের উপর হামলা ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত পোশাক শ্রমিকরা।
শ্রমিক-পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৯ পুলিশ ও শ্রমিকসহ অন্তত অর্ধশতজন আহত হয়েছে। এছাড়াও পুলিশের গাড়িসহ একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ জানায়, আন্দোলনকালে দুই শতাধিক পোশাক শ্রমিক অংশ নেয়। তাদের অনেকের বয়স ১৮ বছরের কম। সেই সাথে শুরু থেকেই এসব শ্রমিকদের বেশির ভাগ যুবকদের হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে মারমুখী অবস্থানে ছিল। এছাড়াও মহাসড়কে পুলিশ দেখেই ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, আন্দোলনরত বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের পুলিশ ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পুলিশের পিকআপভ্যান ভাঙচুর করা হয়।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পোশাক পরিহিতি পুলিশ কনস্টেবল রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন হঠাৎ করে এসে আন্দোলনকারী যুবকরা ওই পুলিশ সদস্যকে এলোপাথাড়ি লাঠিপেটা শুরু করে। সেই সাথে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ভেঙে চুরমার করে দেয়।
খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, পুলিশের ওই গাড়িটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ সদর দপ্তরের। এছাড়াও মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার পথে হামলায় আহত পুলিশ কনস্টেবল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের। ওই পুলিশ সদস্যের এক হাত ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
উত্তরা বিভাগে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ পরিদর্শক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘যারা পুলিশের উপর হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে এবং বিশৃঙ্খলা করার পাঁয়তারা করেছে, তাদের অধিকাংশই গার্মেন্টস শ্রমিক নয়। অনেকেই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। আমাদের ধারণা, বেতন বৃদ্ধির নামে পোলাপান ভাড়া করে একটি চক্র নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে।’
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত- ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর) মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কয়েকবার কথা বলেছি। তাদের দাবিদাওয়াগুলো বিজিএমএ এর কাছে পেশ করার কথা বলেছি। বিজিএমইএ এর মাধ্যমেই সমাধানের কথা জানিয়েছি। কিন্তু তারা তা না করে সব সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করা চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছ মনে হচ্ছে- শ্রমিকদের সাথে কোনো সরকারবিরোধী চক্র সংযুক্ত হয়ে অরাজকতা বা দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারার চেষ্টা চালাচ্ছে।’
মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নাশকতার পাঁয়তারা রুখে দিতে আমরা সতর্ক রয়েছি। কোন ধরনের আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা অরাজকতা করতে না পারে, সেই বিষয়ে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে যে-কোনো বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা করতে পুরোপুরি মোকাবিলা করতে আমরা সক্ষম।’
পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর প্রসঙ্গে মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মহাসড়ক কেন্দ্রিক ছিলাম। কিন্তু আন্দোলনকারীরা ভেতরের রোড দিয়ে ঢুকে পুলিশকে দেখে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। পরবর্তীতে যখন পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া দিয়েছে, সেসময় ভেতরের রোডগুলোতে কয়েকজন পুলিশ আহত হয়েছেন। আহতদেরকে আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’