নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় একটি গরুর বাছুরের খড় খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ সংঘাতের ফলে প্রতিপক্ষের হামলায় শহিদুল ইসলাম (৪২) নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। একই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও ছোট ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার তুলসীরামপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত শহিদুল ইসলাম ওই গ্রামেরই স্থায়ী বাসিন্দা। এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন নিহতের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম এবং স্ত্রী সাথী আক্তার। জানা গেছে, সাইফুল ইসলামের মাথায় মারাত্মক আঘাত লেগে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে, যার ফলে তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় সূত্রে এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলে শহিদুল ইসলামের একটি বাছুর প্রতিবেশী ইব্রাহিম হোসেনের খড়ের গাদা (পালা) থেকে খড় খেতে শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইব্রাহিমের পরিবার বাছুরটিকে আটকে রাখে। বিষয়টি জানতে পেরে শহিদুলের স্ত্রী সাথী আক্তার যখন বাছুরটি উদ্ধার করতে যান, তখন প্রতিবেশী পরিবারের সদস্যদের সাথে তার তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হট্টগোলের শব্দ শুনে শহিদুল ইসলাম, তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম এবং মা সুফিয়া বিবি সেখানে এসে পৌঁছান এবং পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে মোড় নেয়। অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিবেশী ইব্রাহিম হোসেনের ছেলে মো. মোয়াজ্জেম এবং স্বজন জিহাদের মা জীবন নেছা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শহিদুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তারা শহিদুলের মাথায় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সজোরে আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা সাইফুল ইসলামকেও হামলাকারীরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে মাথায় গুরুতর জখম করে। একই সময়ে নিহতের স্ত্রী সাথী আক্তারকেও আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মান্দা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, "হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে এবং এ বিষয়ে আইনগত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।"