বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে বিভিন্ন কৌশলে দেশকে একমুখী করার পাশাপাশি অত্যন্ত গোপনে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, স্বাধীনতার কথা বলে বারবার দিল্লির কৃতদাসত্ব করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে রাজধানী ঢাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ‘কালচার ফর ইউনিটি বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘লালন তিরোধান দিবস’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির capacity-তে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের স্থানটি ছিল টিএসসির পায়রা চত্বর।
প্রায় ৩৮ বছর পর টিএসসিতে কোনো রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে রিজভী জানান, দীর্ঘ সময় পর এখানে এসে তরুণ প্রজন্মের চিন্তা ও দেশপ্রেম দেখে তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ এবং আশাবাদী হয়েছেন। দেশের মাটি, জল, অরণ্য ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে তরুণদের গবেষণামূলক ও দেশপ্রেমিক বক্তব্য শুনে তাঁর মনে হয়েছে যে, দেশের ভেতর বা বাইরের কোনো শক্তিই এখন আর এই দেশকে করায়ত্ত করতে পারবে না।
সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে রাজনৈতিক সম্প্রসারণ সহজ হয়। বিগত ১৬-১৭ বছরে তাই করা হয়েছে। খুব কায়দা করে স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অন্যদিকে দিল্লির কৃতদাসত্ব করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সরকারের প্রধান নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সবকিছু বিলীন করে দিয়েছেন। দেশের সিনেমা হলে বিনা বাধায় ও বিনা অনুমতিতে ভারতের সিনেমা চালানোর মাধ্যমে জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য সার্বভৌমত্বকে ধীরে ধীরে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে।’
বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, ‘দেশের পানি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে ফেসবুকে একটি সাধারণ পোস্ট দেওয়ার কারণে বুয়েটের এক ছাত্রকে দেশেরই কিছু মানুষ আক্রমণ করে হত্যা করেছে। অথচ অন্য কোনো দেশে হলে তাকে বীরের মতো সংবর্ধনা ও প্রশংসা করা হতো।’
অন্যদিকে, ভারতের বর্তমান আন্দোলন নিয়ে বিদেশি মন্ত্রীদের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘একটি সরকার যখন অবৈধ ও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং গুম-খুনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করতে থাকে, তখন তার বিরুদ্ধে গণজাগরণ তৈরি হয়। এটি কোনো দেশ সরানোর ষড়যন্ত্র নয়, এটি জনগণের চূড়ান্ত শক্তির বহিঃপ্রকাশ।’
গণঅভ্যুত্থানকে মানুষের মৌলিক অধিকারের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ফরাসি বিপ্লব এবং আমেরিকার স্বাধীনতার উদাহরণ টেনে বলেন যে, এই ধরনের জাগরণ ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত।
ইউরোপের রেনেসাঁ বা শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে আমাদের লোকজ সংস্কৃতির তুলনা করে রিজভী বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও আমাদের মাটির গভীর থেকে উঠে আসা বাউল সাধক লালন শাহ কিংবা অন্যান্যের দর্শনে মানবতার ও আত্মশুদ্ধির যে বাণী রয়েছে, তা আমাদের সংস্কৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী পাটাতন।’
কালচার ফর ইউনিটির সভাপতি রাশেদ খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক কাজী জেসিন এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।