চাঁদপুরের বিখ্যাত ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার অভিযানটি চালানো হয় নড়াইল জেলায়। এই অভিযানের সময় পুলিশ প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত আটটি মুঠোফোন এবং বেশ কিছু সিমকার্ড জব্দ করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নাম মো. সুমন ভূঁইয়া, মো. সাইফুল ইসলাম মামুন এবং অনিক অধিকারী। তারা সবাই নড়াইল জেলার কালিয়া থানার অন্তর্গত চাচুড়ী ও পেড়লী ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

আজ শনিবার পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয় যে, এই চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে ভুয়া ফেসবুক পেজ এবং হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা করে আসছিল। এসব প্ল্যাটফর্মে তারা ইলিশ মাছ, ফার্নিচার, জুতা, কলম, শিশুদের খেলনা এবং মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ বিক্রির আকর্ষণীয় অফার প্রদান করত। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে তারা শর্ট রিল তৈরি করে বিজ্ঞাপন হিসেবে বুস্ট করত এবং নিজেদের ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সেই বিজ্ঞাপনে ইতিবাচক মন্তব্য লিখে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করত।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, চক্রের সদস্যরা অন্য ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড ব্যবহার করে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো কিংবা অডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করত। তারা নিজেদের ‘নাহিদ’, ‘জাবেদ’, ‘হাজি আবদুল কাদের’, ‘রফিকুল’ ইত্যাদি ভুয়া নামে পরিচয় দিয়ে প্রকৃত ব্যবসায়ী হিসেবে জাহির করত। মানুষকে বিভ্রান্ত করতে তারা ভুয়া ঠিকানা, জাল জাতীয় পরিচয়পত্র, নকল ট্রেড লাইসেন্স, ভুয়া ভাউচার এবং কৃত্রিম ওয়েবসাইট পর্যন্ত তৈরি করেছিল। পণ্য বিক্রির কথা বলে ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে নিত তারা, কিন্তু টাকা পাওয়ার পর মালামাল সরবরাহ না করে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিত এবং গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করত।

এই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে চাঁদপুর মডেল থানায় গত ২১ আগস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর সাইবার সুরক্ষা আইন ও পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তথ্যপ্রযুক্তির বিশেষ সহায়তায় প্রতারকদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর গত ১৪ ও ১৫ অক্টোবর নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার তাদের চাঁদপুরের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, এর আগে একই প্রতারক চক্রের আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সর্বশেষ এই তিনজনের গ্রেপ্তারের ফলে চক্রটির মোট ৯ সদস্য এখন আইনের আওতায় এসেছে।