কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অবস্থিত ‘টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে’ এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১০ জন পর্যটকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক যৌথ শোকবার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এই শোকবার্তায় তারা অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
শিবির নেতৃবৃন্দ তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের সদস্যসহ এ পর্যন্ত ১০ পর্যটকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশান্তির খোঁজে বেড়াতে এসে এমন মর্মান্তিক পরিণতি নিহতদের পরিবারগুলোর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। একই সঙ্গে এ ঘটনা দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।’
রিসোর্টটির নিরাপত্তা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা বলেন, ‘বৈধ অনুমোদন ছাড়াই কাঠের তৈরি এ রিসোর্টটি পরিচালিত হচ্ছিল। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমনপথ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও রিসোর্টটি কীভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। এ ধরনের অব্যবস্থাপনার ফলে সৃষ্ট মর্মান্তিক প্রাণহানির দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে থাকা এবং তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারার বিষয়টিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, অনুমোদনহীন রিসোর্ট পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করার জন্য দায়ী রিসোর্ট মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।
পাশাপাশি, তাদের অবহেলায় সংঘটিত এই প্রাণহানির ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত পর্যটকদের জন্য উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।