কক্সবাজারের ইনানী এলাকার পাটুয়ারটেক সৈকতে অবস্থিত একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন উচ্চশিক্ষার্থী—একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং অন্যজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নিহত শিক্ষার্থীদের নাম মো. নাফিস তেহামী ও লায়লা জাহান নাবিলা। নাফিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামে পড়াশোনা করছিলেন। অন্যদিকে, লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আজ শনিবার সকালে পাটুয়ারটেক সৈকতে অবস্থিত কাঠের তৈরি ‘টুপ টুপ’ নামক রিসোর্টটিতে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্যানুসারে, রিসোর্টটির নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁ ছিল এবং ওপরের দুটি তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে, রিসোর্টটিতে কোনো অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি গত জুন মাসে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এই রিসোর্টটি পরিদর্শন করে সেটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে মোট ১০ জন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে, যার মধ্যে একজন হলেন নাফিস তেহামী। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এক বার্তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “নাফিস তেহামীসহ তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখের ও বেদনার। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত।”
নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে উপাচার্য শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন, “এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহত ব্যক্তির পরিবারের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাফিস তেহামীর বাড়ি বরগুনা জেলার আমতলী থানার দক্ষিণ চুনাখালী গ্রামে।
অন্যদিকে, লায়লা জাহান নাবিলার অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন। তাঁদের শোকবার্তায় মরহুমার আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সাথে এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও মানসিক শক্তি কামনা করেছেন তাঁরা।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় লায়লা জাহান নাবিলার পাশাপাশি তাঁর তিন বোনও প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁরা হলেন ফারিয়া কবির (৩৩), ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)। এছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ফাইজান নূর (৫), যিনি নাবিলার বড় বোন ফারিয়ার ছেলে এবং নাসির উদ্দিন (২৫), যিনি নাবিলার ভাই। জানা গেছে, তাঁরা সবাই ঢাকা থেকে কক্সবাজারে ভ্রমণে গিয়েছিলেন।