খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত জেলা আইসিটি কেন্দ্রে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপ ও প্রায় আধা ঘণ্টার নিরলস চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আগুনের তীব্রতায় কক্ষের ভেতরে থাকা ব্যাটারি, এসি, ফ্যান ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো এবং মোট কত টাকার ক্ষতি হয়েছে, তা জানা সম্ভব হয়নি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় আইসিটি কেন্দ্রে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। তবে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করতে তাদের দরজার তালা কেটে ভেতরে ঢুকতে হয়েছে।

খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মাসুদ রানা জানান, “সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তদন্ত ছাড়া আগুনের সঠিক কারণ এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।”

অগ্নিকাণ্ডের ফলে আইসিটি কেন্দ্রের ব্যাটারি, এসি, ফ্যান, আসবাব ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পরপরই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র বা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আগুনের প্রকৃত সূত্রপাত এবং সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। এটি বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে ঘটেছে নাকি অন্য কোনো কারণে, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে বলে তারা মনে করেন।

জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত জানান, “অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা যাবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।”