কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবু কাউসার নামের এক যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদ ও তার বড় ভাই তানজিলকে আটক করেছে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) পৃথক অভিযানের মাধ্যমে তাদের আটক করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত করতে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
আটককৃতরা হলেন তৌহিদ (৪৩) ও তানজিল (৪৭)। তারা উভয়েই কুমিল্লা সদর উপজেলার আমড়াতলি ইউনিয়নের নন্দিবাজার এলাকার খোরশেদ আলমের সন্তান।
নিহত আবু কাউসার (৪৩) কুমিল্লা নগরের কাপ্তান বাজারের বেপারী পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে নগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে আদর্শ সদর উপজেলার ছত্রখিল এলাকায় গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবু কাউসারকে কুপিয়ে জখম করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বন্ধু শামীম হোসেন এই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে অভিযোগ করেন যে, জমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে শুক্রবার তাদের ডেকে নেন তৌহিদ। এরপর শামীম, আবু কাউসারসহ তিন থেকে চারজন একটি অটোরিকশায় করে নির্ধারিত ঘটনাস্থলে যান। তাদের পেছনে আরেকটি অটোরিকশায় আরও কয়েকজন আসছিলেন। তবে কাউসারকে বহনকারী অটোরিকশাটি আগে সেখানে পৌঁছে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই তৌহিদের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই সময় ধারালো দা দিয়ে আবু কাউসারের গলা ও ঘাড়ে কোপ দেওয়া হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। শামীমের দাবি, হামলার পর তৌহিদ ও তানজিলসহ চারজন দুটি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালিয়ে যান।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে কুমিল্লা নগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নূরপুর এলাকা থেকে তৌহিদকে আটক করা হয়। আটক হওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা তাকে ধরে মারধর করে। পরবর্তীতে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সেখানে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। একই রাতে তার বড় ভাই তানজিলকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, “তৌহিদ ও তানজিলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জানাজার পর মামলা করার কথা জানিয়েছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের জন্য অভিযান চলছে।”