রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সাবেক মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীরসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে। এই অনিয়মের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা, অবৈধভাবে বরাদ্দ দেওয়া প্লটগুলো বাতিল এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে আইনজীবী জাকির হোসেনের মাধ্যমে দুদকের কার্যালয়ে এই অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয়। অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক বাছির উদ্দিন বাচ্চু এবং দলটির অন্যান্য নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— সাবেক মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর, তার সাবেক এপিএস এমদাদুল হক দাদুল, আনছার আলী, সালাউদ্দিন চেয়ারম্যান, ফেরদৌসী আলম নীলা, ইমন হাসান খোকন এবং আরমান মোল্লা।
অভিযোগপত্র দাখিলের পর অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন গণমাধ্যমের সামনে বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি ও জালিয়াতির মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ করা প্লট আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকৃত ও যোগ্য লোকোরা বঞ্চিত হয়েছেন।’
তিনি আরও বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ‘একজনের নামে ১০-২০টি বা তারও বেশি প্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে, যা রাজউকের নিয়মের পরিপন্থি। জালিয়াতির মাধ্যমে আদিবাসীদের ৫ শতাধিক প্লট হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তার দাবি, এসব প্লটের বিপরীতে ক্ষতিগ্রস্তদের বরাদ্দ বা অধিগ্রহণের পাওনা অর্থ দেওয়া হয়নি।’
জাকির হোসেন আরও উল্লেখ করেন, ‘সংসদ সদস্যের নির্দেশনা ও পরামর্শে আইনজীবীরা দুদক চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেছেন। এতে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া প্লটের বরাদ্দ বাতিল, অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ এবং তাদের দেশত্যাগ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।’
তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই আইনি উদ্যোগের ফলে রূপগঞ্জের নির্যাতিত, নিপীড়িত এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন। একই সাথে মুস্তাফিজুর রহমান দিপুর স্বপ্নের রূপগঞ্জ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এই পদক্ষেপটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
আবেদনকারীরা এই অভিযোগগুলোর একটি নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।