রাজধানীর পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বড় ধরনের শাস্তি পেলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ আটজন। আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৯–এর বিচারক আব্দুস সালাম এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী তরিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যম মুক্তকণ্ঠকে এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের রায়ে দণ্ডিত আটজনের মধ্যে রয়েছেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক ও মো. রেজাউল করিম তরফদার। এছাড়া আম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ এবং আশফাক আজিজকেও এই মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে।

সাজার বিস্তারিত জানিয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন, “রাজউকের সাবেক ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটি ধারায় তাঁদের সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁদের ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।”

একইভাবে মামলার অন্য দুই আসামি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকেও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত তাঁদেরও উভয় ধারায় সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁদের ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে এবং এই অর্থ অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে রায়ে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ উপায়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠা প্লট বরাদ্দ দেওয়া ও নেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের করে দুদক। তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে মোট ২০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দিয়েছিলেন। এই অবৈধ বরাদ্দের ফলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে সংস্থাটি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং পরবর্তীতে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।