অন্য কারো অবস্থানে নিজেকে কল্পনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সবসময় সহজ হয় না। তবে জোসে মরিনিওর ক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বর্তমান পরিস্থিতির কথা ভেবে তিনি দাবি করেছেন, তিনি যদি ভিনিসিয়ুসের জায়গায় থাকতেন, তবে এতদিনে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে চলে যেতেন।
মরিনিওর মতে, যে দেশে একজন খেলোয়াড় সম্মান পান, সেখানেই তিনি খেলতে পছন্দ করতেন। কিন্তু ভিনিসিয়ুস তা করেননি, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছেন। এই অদম্য মানসিক দৃঢ়তার কারণেই রিয়াল কোচ তার শিষ্যকে নিয়ে অত্যন্ত প্রশংসাসূচক কথা বলেছেন।
রোববার সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিয়ুসকে নিয়ে এসব মন্তব্য করেন মরিনিও। উল্লেখ্য, ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখার কারণে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ভিনিসিয়ুস। আর এই নিষেধাজ্ঞার কারণেই সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ডকে পাওয়া যাচ্ছে না।
মাঠের বাইরের নানা বিতর্কের পাশাপাশি মাঠের পারফরম্যান্স নিয়েও বর্তমানে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভিনিসিয়ুস। চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার বিপক্ষে ম্যাচে ৫৯ মিনিট খেলার পর মরিনিও তাঁকে সরিয়ে এনদ্রিককে মাঠে নামান। এই সিদ্ধান্ত যেন ভিনিসিয়ুসকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। যদিও পরবর্তীতে তিনি ব্যাখ্যা করে জানান, তাঁর সেই রাগ কোচের প্রতি ছিল না, বরং নিজের পারফরম্যান্সে হতাশ হয়েই তিনি এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন।
এর পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের কাছ থেকেও শুনতে হচ্ছে নানা নেতিবাচক কথা। সব মিলিয়ে ভিনিসিয়ুসের জন্য বর্তমান সময়টি বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন প্রতিকূল সময়ে শিষ্যের পাশে দাঁড়িয়ে মরিনিও বলেন, ‘সে অসাধারণ একজন তরুণ। তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা সহজ। প্রতিদিনই তার সঙ্গে একান্তে কয়েক মিনিট কথা বলি। আমি তাকে অনেক মূল্য দিই। কারণ, এত কিছুর পরও সে নিজের জীবন স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাচ্ছে এবং হাসিমুখে সবকিছুর মোকাবিলা করছে।’
এরপরই নিজের সঙ্গে ভিনিসিয়ুসের একটি তুলনা টেনে মরিনিও বলেন, ‘আমি যদি তার জায়গায় থাকতাম, তাহলে হয়তো এখানে থাকতাম না। যে দেশে আমাকে সম্মান করা হয়, সেখানে যাওয়ার জন্য ক্লাবকে আমাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য করতাম। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি তার ভালোবাসা এবং ক্লাবটির সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্কের কারণেই সে থেকে গেছে।’
ভিনিসিয়ুস কেন এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন মরিনিও। তিনি বলেন, ‘সে বিশ্বাস করে, পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। এ কারণেই সে হাসিমুখে সবকিছুর মোকাবিলা করে যাচ্ছে। কোনো কিছুই, কোনো মানুষই তার সেই হাসি কেড়ে নিতে পারবে না।’
ভিনিসিয়ুসের চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মরিনিওর কণ্ঠে এক ধরণের স্বস্তির সুর শোনা গেছে। তিনি বলেন, ‘এই শাস্তিতে আমি খুশি। কারণ, আমার ধারণা ছিল, তাকে আরও বেশি ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে। পর্দার আড়ালে কিছু বিষয় যেভাবে এগোচ্ছিল, তাতে তার শাস্তি আরও এক বা দুই ম্যাচ বাড়তে পারে বলে মনে হয়েছিল।’
চারপাশে সমালোচনার ঝড় চললেও ভিনিসিয়ুসের জন্য আপাতত বড় প্রাপ্তি হলো তাঁর কোচের পূর্ণ সমর্থন ও পাশে থাকা।