পাবনার বেড়া উপজেলায় দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠীর দিনেও বেশ কিছু প্রতিমার কাজ এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যার পর পৌর শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও চলছে প্রতিমার রং করার কাজ, আবার কোথাও চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা। প্রতিমাশিল্পীরা তাঁদের সহকারীদের নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক শিল্পীর কাজ রাতের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে, আবার কারও ক্ষেত্রে পুরো রাতই কাটে প্রতিমা তৈরির কাজে।
বেড়া পৌর এলাকার চরপাড়া মহল্লার একটি বাড়ির পূজামণ্ডপে শুক্রবার রাত আটটার দিকে দেখা যায়, প্রতিমার কাঠামো ও মাটির কাজ শেষ হয়ে গেলেও রং করার কাজ অনেকটাই বাকি রয়েছে। সেখানে প্রতিমাশিল্পী কানাই পাল তাঁর সহকারীদের নিয়ে কাজ করছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিমার কাজ পুরোপুরি শেষ করতে তাঁদের রাতভর জেগে কাজ করতে হতে পারে।
একই মহল্লার চরপাড়া বারোয়ারি পূজামণ্ডপে দুই সহকারীকে নিয়ে প্রতিমায় রং করছিলেন শিল্পী বিনয় পাল। তিনি বলেন, ‘এবার বেশির ভাগ প্রতিমাশিল্পীর কাজই এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। আমি চারটি প্রতিমা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছিলাম। অন্য তিনটির কাজ শেষ করে দিয়েছি। শুধু নিজের মহল্লার প্রতিমাটির কাজ বাকি। রাতের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। প্রায় প্রতিবছরই এমন হয়।’
বেড়ায় বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত প্রতিমাশিল্পী রয়েছেন ১৫ জন। তাঁরা মূলত উপজেলার মালদাপাড়া, আমিনপুর ও চরপাড়া গ্রামে বসবাস করেন। তাঁদের সহযোগী হিসেবে আরও ২০ থেকে ২৫ জন কাজ করেন। বেড়ার প্রতিমার ব্যাপক সুনাম থাকায় এই শিল্পীদের স্থানীয় এলাকার পাশাপাশি পাবনা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন মণ্ডপের জন্যও প্রতিমা তৈরি করতে হয়। একজন শিল্পী গড়ে আট থেকে দশটি পর্যন্ত প্রতিমা তৈরি করেন।
দুর্গাপূজার সময় ছাড়া বছরের অন্য সময়ে এই শিল্পী ও তাঁদের সহযোগীরা মাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে সেসব পণ্যের চাহিদা আগের মতো নেই। ফলে সারা বছর মৃৎশিল্পের কাজ করে সংসার চালানো তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। দুর্গাপূজার মৌসুমে একসঙ্গে অনেক প্রতিমা তৈরির ফরমাশ পাওয়ায় কাজের চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। সেই চাপ সামলাতেই ষষ্ঠীর রাতেও শেষ তুলির আঁচড় দিতে ব্যস্ত থাকতে হয় তাঁদেরকে।
প্রতিমাশিল্পী ধনু পাল এবার মোট ১০টি প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন। সর্বশেষ প্রতিমার কাজটি সম্পন্ন করতে তিনি পাবনা শহরে গিয়েছেন। শুক্রবার রাত নয়টার দিকে মুঠোফোনে তিনি প্রথম আরোকে বলেন, ‘প্রতিমার কাজ শেষের দিকে। হয়তো ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে। বাকি প্রতিমাগুলোর কাজ আগেই শেষ করেছি। প্রতিবছরই এমন হয়। ষষ্ঠী থেকে পূজা শুরু হলেও মূল পূজা সপ্তমীতে। সপ্তমীর আগে প্রতিমা তৈরি শেষ করতে পারলেই আমরা স্বস্তি পাই।’
মালদাপাড়ার আরেক প্রতিমাশিল্পী ষষ্ঠী পাল জানান, ‘অনেক কষ্ট করে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার মধ্যে ৯টি প্রতিমার কাজ শেষ করেছি। আটটির কাজ আগেই শেষ হয়েছিল। শেষ প্রতিমাটির কাজও সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শেষ করেছি। তবে অনেক শিল্পীর কাজ এখনো বাকি।’
বেড়া উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ভৃগুরাম দাস বলেন, ‘বেড়ার প্রতিমাশিল্পীদের সুনাম আশপাশের জেলাগুলোতেও ছড়িয়ে আছে। এ কারণে তাঁদের বেড়ার বাইরেও অনেক প্রতিমা তৈরি করতে হয়। প্রতিবছরই দেখা যায়, শেষ প্রতিমাটির কাজ শেষ করতে ষষ্ঠীর রাতে তাঁদের জেগে থাকতে হয়। অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণেই এমনটা হয়।’