চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান শাটডাউন ও অসহযোগ কর্মসূচির মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই সভায় উপাচার্য ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক সদস্যই উপস্থিত ছিলেন না। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই সভাটি আয়োজন করা হয়।

সভায় অংশগ্রহণকারী একজন সিন্ডিকেট সদস্য এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাহিদুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে জানান, উপাচার্য ব্যতীত চুয়েটের অন্য কোনো শিক্ষক সদস্য (ছয়জন) এই সভায় উপস্থিত ছিলেন না। সভার বিস্তারিত বিষয়ে উপাচার্য নিজেই অবগত করবেন বলে তিনি অধিক তথ্য দিতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য যে, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে উপাচার্য পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন দানা বেঁধেছে। গত সোমবার সকালে ছাত্রদল নেতাদের সহায়তায় উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেছিলেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাঁকে ভেতরে রেখে ভবনের ফটকে পুনরায় তালা লাগিয়ে দেয়। প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে আনা হয়। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন এবং আজকের এই সভার আহ্বান জানান।

চুয়েটের সিন্ডিকেটে উপাচার্যসহ মোট ১৭টি সদস্য পদ রয়েছে। তবে বর্তমানে সহ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদ দুটি শূন্য। সভার সময় ১৫ জন সদস্যের মধ্যে ঠিক কতজন উপস্থিত ছিলেন, সেই সঠিক তথ্য জানা যায়নি।

সভার মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে উপাচার্যের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে ক্লাস-পরীক্ষা পুনরায় চালু করা কিংবা বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। আজ ছিল শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউনের ২৫তম দিন। এর পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং অসহযোগ কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে।

সদস্যদের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে কেউ ছুটির কথা জানিয়েছেন, আবার কেউ পারিবারিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। সভা শেষে ১৫ জন সদস্যের মধ্যে ১৪ জনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, যার মধ্যে পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়। তাঁদের মধ্যে একজন সিন্ডিকেট সদস্য এবং চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সভায় বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি বা যোগাযোগের ঘাটতি থাকলে তা দূর করার বিষয়েও সদস্যরা মতামত দিয়েছেন।”

চুয়েটের শিক্ষকদের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে সিন্ডিকেট সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান জানান, তিনি ছুটিতে থাকায় সভায় অংশ নিতে পারেননি। অন্যদিকে অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামাল জানান, তাঁর মায়ের অসুস্থতার কারণে তিনি যোগ দিতে পারেননি।

এছাড়া চুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক সুনীল ধর, নদী, বন্দর ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আসিফুল হক এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইব্রাহিম খানের মুঠোফোনে কল করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

চুয়েটের বাইরে থেকে সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে থাকা প্রকৌশলী ফিরোজ খাননূন ফারাজী জানান, ব্যস্ততার কারণে তিনি সভায় যোগ দিতে পারেননি। সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্য বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আইনাল হক, প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সেকান্দার চৌধুরীর মুঠোফোনে কল করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।