নেত্রকোণায় দুর্বৃত্তদের অতর্কিত গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন সাংবাদিক লুৎফুর রহমান ফকির আলিফ (৩২)। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের পর শুক্রবার তার নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। হাসপাতালের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, আলিফের শরীরে মোট ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেলেও একটি গুলি তার পিঠে আটকে ছিল, যা শুক্রবার উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর এই তথ্যগুলো জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ।

চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ বিস্তারিত জানান, লুৎফুর রহমান আলিফের বুকে তিনটি গুলির আঘাত পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেলেও একটি গুলি পিঠের ভেতরেই আটকে ছিল। এছাড়া একটি গুলি তার কপালের ডান পাশ দিয়ে প্রবেশ করে মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। বাকি দুটি গুলির মধ্যে একটি আঘাত করে মাথার ওপরের অংশে এবং অন্যটি ডান কাঁধের পাশের চামড়া ভেদ করে চলে যায়।

গুলির ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ বলেন, “শরীরে গুলির প্রবেশ ও বের হওয়ার চিহ্ন পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আলিফকে সামনের দিক থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছে।”

এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত হামলাকারীদের শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে শুক্রবার বিকেলে নিহত সাংবাদিক আলিফের মরদেহ তার নিজ বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের ডিতপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার একটি দোকানে বসে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারান লুৎফুর রহমান ফকির আলিফ। তিনি বেসরকারি আইপি টেলিভিশন ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।