নতুন মৌসুমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোনো পয়েন্ট হারায়নি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। টানা তিন ম্যাচে জয়লাভ করে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে তারা। অন্যদিকে, লিগের প্রথম ম্যাচে ড্র করে শুরু করলেও পরবর্তী দুটি ম্যাচে জয়ী হয়ে ছন্দে ফিরেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ম্যাচে পিডব্লিউডিকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে মোহামেডান। একই দিনে নবাগত সিটি ক্লাবের মুখোমুখি হয়ে ৩-০ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে কিংস।

মজার বিষয় হলো, দুই দলের জয়ের চিত্র ছিল প্রায় কাছাকাছি। প্রথমার্ধে উভয় দলই বেশ কিছু আক্রমণাত্মক সুযোগ তৈরি করলেও গোল করতে ব্যর্থ হয়। তবে বিরতির পর রণকৌশল পরিবর্তন করে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে দেয় মোহামেডান ও কিংস।

মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ-তপন স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মোহামেডান। তবে প্রথমার্ধে সুযোগগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি সাদা-কালোদের ফুটবলাররা। উল্টো ৪২ মিনিটে পিডব্লিউডির এমবিদা ইয়োহানের একটি জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর বিরতি থেকে ফিরেই ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় মোহামেডান।

প্রথমার্ধে গোল না পাওয়ায় বিরতির পর কৌশলগত পরিবর্তন আনেন মোহামেডান কোচ ফার্নান্দো সান্তিয়াগো ভারেলা। তিনি মাঠে নামান এমানুয়েল সানডেকে। মাঠে নামার পরপরই নাইজেরিয়ান এই ফরোয়ার্ড আক্রমণে গতি সঞ্চার করেন। ম্যাচের ৪৬ মিনিটে তাঁর দেওয়া একটি ক্রস থেকে হেডে বল জালে পাঠিয়ে মোহামেডানকে লিড এনে দেন মালির ফরোয়ার্ড সোলেমান দিয়াবাতে।

এরপরই ব্যবধান আরও বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যায় মোহামেডান। ৭৮ মিনিটে আবারও সানডের ক্রস থেকে আক্রমণ গড়ে ওঠে। দিয়াবাতের হেডে তৈরি হওয়া সুযোগটি কাজে লাগিয়ে আরেকটি হেডে গোল করেন মিনহাজুল আবেদীন রাকিব। বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলেও ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে মোহামেডান। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে দলটি। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ এফসি। অন্যদিকে চার ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে নেমে গেছে পিডব্লিউডি।

এদিকে গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে নবাগত সিটি ক্লাবের বিপক্ষে প্রথমার্ধে গোল পেতে বেশ বেগ পেতে হয় বসুন্ধরা কিংসকে। রবসন রবিনিও ও কাইকে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো গোলের দেখা পায়নি।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দৃশ্যপট বদলে যায়। ৪৯ মিনিটে কাইকের সঙ্গে বল আদান-প্রদানের পর বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করেন অধিনায়ক রবসন রবিনিও।

পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে সিটি ক্লাব। ৬৯ মিনিটে শায়াক দোস্তের একটি হেড ঠেকিয়ে কিংসের রক্ষণ সামলে নেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। এর ঠিক তিন মিনিট পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

৭২ মিনিটে বক্সের ভেতর নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এমেকা ওগবুগুকে ফাউল করেন সিটি ক্লাবের ফরহাদ মোনা। এর ফলে পেনাল্টি পায় কিংস। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন ওগবুগু।

ম্যাচের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানি। মোহাম্মদ আবদুল্লাহর পাস থেকে বক্সের বাইরে নেওয়া একটি নিচু শটে গোল করেন তিনি। কিংসের জার্সিতে এটিই তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম গোল।

এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে বসুন্ধরা কিংস। সমান সাত পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পঞ্চম স্থানে নেমেছে সিটি ক্লাব। চলতি লিগে এটিই তাদের প্রথম পরাজয়।

উল্লেখ্য, মৌসুমের প্রথম ম্যাচে আরামবাগের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল কিংস। এরপর ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করার পর এবার সিটি ক্লাবের জালে তিনটি গোল দিল তারা।