প্রথম মিনিটেই গোল, চার মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ। এরপর লাল কার্ড এবং একের পর এক গোল—বাংলাদেশ ফুটবল লিগে আজকের দিনটি ছিল মূলত গোলের উৎসব। চার ম্যাচে মোট ১৮ বার জাল কেঁপেছে, যার মধ্যে মাত্র দুই ম্যাচেই এসেছে ১৩টি গোল। কিংস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে বসুন্ধরা কিংস।

অন্যদিকে গোপালগঞ্জে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ফর্টিস এফসি। এই বিশাল জয়ের ফলে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে লিগের শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে ফর্টিস। অন্যদিকে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে বসুন্ধরা কিংস।

কিংস অ্যারেনায় শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথম মিনিটেই নেপালি উইঙ্গার মনীশ দাঙ্গির গোলে লিড নেয় বসুন্ধরা কিংস। এরপর মাত্র চার মিনিট পর সাব্বির হোসেন ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ম্যাচের শুরুতেই দুই গোল হজম করে চরম চাপে পড়ে যায় ঢাকা ওয়ান্ডারার্স। তারা মাঝেমধ্যে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে দাঁড়ায় ওয়ান্ডারার্সের জন্য। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফাউল করার অপরাধে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তাদের গোলরক্ষক জসিম উদ্দিন। ফলে ম্যাচের বাকি সময়টুকু ১০ জন নিয়ে লড়াই করতে হয় ওয়ান্ডারার্সকে।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিবর্তে আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ওয়ান্ডারার্স। ৪৯ মিনিটে সাব্বির হোসেন নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন। এরপর ৬৯ মিনিটে গোলের খাতায় নাম লেখান কিংসের তারকা ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন। ৭৯ মিনিটে ওয়ান্ডারার্সের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

তাতেও শেষ হয়নি কিংসের গোল উৎসব। ৮৭ মিনিটে রবসনের ক্রস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রাকিব। সবশেষে যোগ করা সময়ে রাকিবের পাস থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাব্বির। এর মাধ্যমে ৭-০ গোলের বিশাল জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ছয়বারের লিগ চ্যাম্পিয়নরা।

গোলের এই উৎসবে পিছিয়ে ছিল না ফর্টিস এফসিও। তবে গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধে ব্রাদার্স ইউনিয়নের জালে একটি গোলও দিতে পারেনি ফর্টিস। বিরতির পর দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। ৫৬ মিনিটে মোহাম্মদ ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় ফর্টিস। এরপর ৬৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইনসান হোসেন।

৭৫ মিনিটে গোল করেন পা ওমর বাবু এবং ৮১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন তিনি। পঞ্চম গোলেও তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ; ওমর বাবুর বাড়ানো বল থেকে গোল করেন স্টিভেন চুকউডি। সবশেষে যোগ করা সময়ে রাফায়েল টুডুর গোলে ৬-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে ফর্টিস। পুরো ম্যাচে বলের দখলেও ছিল ফর্টিসের একচ্ছত্র আধিপত্য। ব্রাদার্স ইউনিয়ন মাত্র ১৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হয়েছে।